কালের স্বাক্ষী কটিয়াদীরের নীল কুঠি

Date: 2023-10-02
news-banner



নাঈম ইসলাম 
কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধিঃ


নেই নীলকর, নেই নীল চাষের জমি তবে আজও ভেসে উঠে নীল জাল দেওয়া সেই চুলাটির প্রতিটি ইটে আঁকা নীলকরদের নির্যাতনের চিত্র। প্রতিটি ইটে  ভেসে ওঠে দরিদ্র কৃষকের ওপর অত্যাচারী নীলকরদের নির্যাতনের বীভৎস দৃশ্য। মনে হয় ভেসে আসছে অসহায় কৃষকের পাজরভাঙা চিৎকার। 

বলছি কিশোরগন্জ জেলা কটিয়াদী উপজেলা ঐতিহ্য সমৃদ্ধ নীলকুঠির কথা। যে কুঠিরে রয়েছে নীলচাষীদের দুঃখ কষ্ট আর দুর্দশার ছবি আকা। বর্তমান কটিয়াদী উপজেলা পৌর সদর থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে বর্তমান জালালপুর ইউনিয়নে অবস্থিত এই কুঠিরের ইতিহাস অনেক পুরনো।

ইতিহাস থেকে জানা যায় অন্তহীন নন্দীত ঐতিহ্যের পাশাপাশি ব্রিটিশ শাসন আমলে ইংরেজ বেনিয়ারা প্রতিষ্ঠিত করে কটিয়াদীর জালালপুরে নিন্দিত নীল কুঠির । ১৮৮৬ খ্রীঃ বর্তমান কটিয়াদী উপজেলার অন্তর্গত জালালপুরে উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় নীল চুল্লী ছিল। এখনো এই নীল চুল্লীর ধংসাবশেষ রয়েছে । যেখানে আর্তমানবতার ভাষা স্তব্ধ। যেখানে অত্যাচার অবিচারের দাপট ছিল আকাশচুম্বি এখনো কালের সাক্ষী হয়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছে এই নীল কুঠির। পরাধীনতার রজ্জু যে কত নিষ্ঠুর এই নীল কুঠিরই তার দৃষ্টান্ত। কলে তৈরি কাপড়ের রঙের জন্য নীলের প্রয়োজন দেখা দেয়। 

সেই সূত্র ধরে পূর্ব বাংলার কৃষককে তারা জোর করে নীল চাষ করাতে বাধ্য করতো। কিন্তু নীলকর, জমির মালিকের পাওনা, চাষ খরচ সবকিছু বাদ দিয়ে কৃষকের ভাগ্যে শূন্যের অঙ্ক ছাড়া কিছুই জুটত না। ফলে কৃষকরা নীল চাষে অস্বীকৃতি জানাতো। এ কারণেই তাদের ওপর নেমে আসতো অপমান এবং নির্যাতন।

বর্তমানে সংরক্ষণের অভাবে চুল্লিটি জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এ চুল্লিটি সংরক্ষণসহ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তরের জোড় দাবি জানিয়েছেন

Leave Your Comments