সানজিম মিয়া - গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধিঃ
উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীসমূহের পানি বৃদ্ধি সমতল সম্পর্কিত পূর্বাভাস অনুযায়ী এবং ভারতীয় সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশন (CWC) এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতের উত্তর সিকিম এ তিস্তা নদীর চুংথাং ড্যাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উজানে তিস্তা নদীর পানি সমতলে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিস্তা নদীর পানি সমতল ডালিয়া পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এমন সংবাদে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার ৪ নং সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মাজহারুল ইসলাম লেবু আজ সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত ইউ’পির ৯ টি ওয়ার্ড এর মধ্যে নদী বিস্তৃত তিনটি ওয়ার্ডের সাধারণ জনগনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকালেই সতর্কবার্তা দিয়ে মাইকিং করা হয়েছে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী গজলডোবা পয়েন্টে পানিসমতল বিগত মধ্যরাত হতে প্রায় ২৮৫ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়েছে (বর্তমান পানি সমতল ১১০.৩০ মি.এবং দোমুহুনী পয়েন্টে অদ্য সকাল হতে প্রায় ৮২ সে.মি. বৃদ্ধি পেয়েছে বর্তমান পানি সমতল ৮৫.৯৫ মি.এবং এই বৃদ্ধি অব্যাহত আছে।
উপজেলা প্রশাসন সুত্রে জানা যায়, সকল দপ্তরের কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করে উপজেলা ক্যাম্পাসে অবস্থানে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি উপজেলা আওয়ামী-লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও সাংবাদিকদের নদী তীরবর্তী এলাকায় অবস্থান করতে দেখা গেছে।
ভারতীয় আবহাওয়া সংস্থার তথ্য মতে, ভারতের সিকিম অঞ্চলে আগামী ৪৮ ঘন্টা পর্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে এবং পরবর্তীতে সর্বোচ্চ পানি সমতলের (৫২.৮৪ মি) কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এমনই তথ্য দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ঢাকা বাপাউবো। বন্যা পূর্ববর্তী প্রস্তুতি সম্পর্কে ইউ’পি চেয়ারম্যান মাজহারুল ইসলাম বলেন,তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ তামান্নার নির্দেশে তার পরিষদের লোকবল নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার লক্ষ্যে প্রস্তুুত রয়েছেন।
তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র তৈরী করে বন্যা কবলিত এলাকার লোকজনকে থাকার ব্যবস্থা ও শুকনো খাবার সংগ্রহ করে রেখেছেন। এছাড়া বন্যা হলে ক্ষতির পরিমান কমাতে তাদের গৃহপালিত গরু,ছাগলসহ অন্য প্রাণীদের নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসার জন্য গ্রাম পুলিশকে নির্দেশনা দিয়েছেন সেই মোতাবেক তারা কাজ করে যাচ্ছেন।