সৌদিতে আটকে পড়া নারী কর্মী হাজেরা দেশে ফিরবে কাল

Date: 2024-10-05
news-banner

 

আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):

 

সৌদি আরবে আটকে পড়া নারী কর্মী হাজেরা বেগম সৌদি আরবের দাম্মাম থেকে মুম্বাই হয়ে আগামী কাল ১ টা ১০ মিনিটে ঢাকা, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছার কথা রয়েছে। ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানাধীন আসিম উত্তর টানপাড়া এলাকার মো. শহজাহানের স্ত্রী হজেরা বেগম স্বামী ও ৩ সন্তান সাগর, শিখা এবং ছোয়া মণিকে রেখে অভাবের সংসারের অর্থনৈতিক চাকা ঘুড়াতে দালালের মাধ্যমে পাড়ি জমান সৌদিআরব।

 

দালাল নূর হেসেন ও রুবির সাথে সম্পূর্ণ বিনা খরচে মাসিক ৩০ হাজার টাকা বেতনে বাসা-বাড়ির কাজের কথা হলেও পাসপোর্ট, মেডিকেল টেষ্ট ও ট্রেনিং সার্টিফিকেটের কথা বলে দালাল নূর হোসেন হাজেরার কাছ থেকে কৌশলে হাতিয়ে নেয় বেশকিছু টাকা। অতঃপর দালালদের নির্ধারিত অফিস, ২৮/এ কাকরাইলস্থ “বিইসি ট্রাভেলস নেটওয়ার্ক” এর মাধ্যমে হাজেরা চলতি বছরের ৩ এপ্রিল সৌদির উদ্যেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে। সেখানে তাকে এক সৌদিয়ানের বাসায় কাজে দেয়া হয়। কিন্তু ১৭ দিনের মাথায় বিশেষ কারণে তাকে আবার ফিরিয়ে আনা হয় কোম্পানীর নির্ধারিত ক্যাম্পে। শুরু হয় হাজেরার যত বিপত্তি। ক্যাম্পে বসে থেকে থেকে হাজেরার প্রাথমিক ৩ মাসের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। তাকে এক বন্দীশালার মত থাকতে হয় প্রায় ৫ মাস। তার সাথে একই রুমে বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের আরো অনেক মেয়ে রয়েছে সেখানে। তাদের সবার কাছ থেকে মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়, যাতেকরে দেশে কারো সাথে তারা যোগাযোগ করতে না পারে। ৭ দিন/ ১০ দিন পর পর কয়েক মিনিটের জন্য দেশে কথা বলতে দেওয়া হয় এবং সেখানে কোম্পানীর কর্তব্যরত যারা আছে, তাদের সামনেই কথা বলতে হবে। সকালে একটি বিস্কুট ও রাতের বেলা একমুঠো ভাত, এই ছিল দৈনন্দিন খাবার আয়োজন। তার উপর রয়েছে যখন-তখন যাকে-তাকে ধরে নিয়ে গায়ে হাত তোলা, নির্যাতন করা।

 

এ অবস্থায় হজেরা বেগম অতিষ্ট হয়ে সেখান থেকে মুক্তি পাওয়ার আশায় দেশে তার ভাই আল আমিনকে বিষয়টি জানাতে সক্ষম হয়। সে আকুতি-মিনতি করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য। আল আমিন বেশ কয়েকবার অফিসে ধর্ণা দিয়ে ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে বোনকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সৌদিতে বোনের ক্যাম্পের দায়িত্বরত এক বাংলাদেশীর কাছে ২০ হাজার টাকা পাঠায়, এদিকে ঢাকা অফিস স্টাফ মীমকে ১৫ হাজার টাকা দিয়ে বোনকে ফিরিয়ে আনার জন্য অনুরোধ জানায় এবং আরো টাকা দেয়ার কথা দেয়। কিন্তু কিছুতেই কিছু হয় না।

 

এক পর্যায়ে আল আমিনের বন্ধু ঈসার মাধ্যমে জানতে পেরে সে মানবাধিকার সংগঠন “ইউনিটি ফর ইউনিভার্স হিউম্যান রাইটস অব বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন” এর সহযোগীতা চায় তার বোনকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য। অতঃপর উক্ত মানবাধিকার সংগঠনের ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুনের মাধ্যমে “বিইসি ট্রাভেলস নেটওয়ার্ক” এর ম্যানেজিং পার্টনার মোহাম্মাদ আবুল বাসারের উদ্যোগে হাজেরার দেশে আসার দিন-তারিখ নির্ধারিত হলে ইতোমধ্যে তার নামে প্লেনের টিকিটও কনফার্ম করা হয়। সে অনুযায়ী রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১ ট ১০ মিনিটে হাজেরার বাংলাদেশে পৌঁছার কথা।

 

হাজেরার মত যারা দালালদের হাত ধরে বিভিন্ন এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে গিয়ে থাকেন, সেখানে তাদের পরিনতি কি হয়, এ বিষয়ে এজেন্সিগুলোর ভূমিকাই বা কি? এসব বিষয়ে ‘বার্তা বিচিত্রা’র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে পরবর্তী সংখ্যায়। 

Leave Your Comments