মো.আজাদ হোসেন
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি :
প্রতিবেশি দাদার ধর্ষণের শিকার ১৪ বছরের
কিশোরী নাতনী। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় গ্রাম্য
শালিসীর মাধ্যমে চুক্তিতে বিয়ে হয়েছে। সন্তান প্রসব হলেই ঘটবে বিবাহ বিচ্ছেদ। ঘটনাটি জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার হাতিভাঙ্গা ইউনিয়নের।
অন্তঃসত্ত্বা সন্দেহে কিশোরী স্বপ্নার (ছদ্ম নাম)
শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করে দাদি। দাদির
প্রশ্নের জবাবে মায়া ধর্ষণের শিকার বলে
স্বীকারোক্তি দেয়।
জানায় ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ সকালে বাড়িতে
কেউ ছিলোনা । জীবন উদ্দিন দাদা ধর্ষণ করেছে।
এরপর ভয় ভীতি দেখিয়ে দিনের পর দিন গোপনে এ কাজের জন্য বাধ্য করে ।
কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা কি না? নিশ্চিত হতে দাদি ২৮ আগষ্ট জামালপুর জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে আল্ট্রাস্নোগ্রাম করায়। রিপোর্ট অন্তঃসত্ত্বা নিশ্চিত করে এবং সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ দেয় ২৮ ডিসেম্বর । কিশোরীর পরিবার বিষয়টি কথিত ধর্ষক জীবন উদ্দিনের সাথে আলোচনা করেন । তিনি অন্তঃসত্ত্বা কথা শুনে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে গর্ভপাতের জন্য বলে।
এবং গোপনে কিশোরিকে গর্ভপাতের জন্য বিভিন্ন ঔষধ কিনে দেয়। কিন্তু কিশোরি তা সেবন করেনি ।
বিষয়টি পুরো এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। ন্যায় বিচার পেতে এলাকার মেম্বার, চেয়ারম্যানের
দারস্থ হয় ধর্ষিতার পরিবার। কয়েকদিন পর
চেয়ারম্যানের বাড়িতেই গ্রাম্য শালিসি হয়।
চুক্তি ভিত্তিক দাদা নাতনীর বিবাহের সিদ্ধান্ত হয়।
চুক্তি ; কাবিন ৫ লাখ টাকা, জরিমানা নগদ ৩ লাখ টাকা, এছাড়াও কিশোরীর নামে ৫ শতাংশ জমির দলিল। উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে পাশ্ববর্তী এরেন্ডাবাড়ি ইউনিয়নের কাজি ডেকে বিবাহ সম্পন্ন করানো হয় । বর পক্ষ বিয়ের দিন
কিশোরির অভিভাবককে ১ লাখ ৩০ হাজার নগদ টাকা বুঝে দেয়। বাকি টাকা পরিশোধের সময় নেন তিনি।
এদিকে কিশোরি সাত দিন সংসার করতে না করতেই শুরু হয় সতীনের জ্বালা।
অপরদিকে স্বামী বাকি টাকা ও জমির প্রতিশ্রুতি বুঝে দিতে গড়িমসি শুরু করে।
কিশোরীকে ফিরে যেতে হয় বাপের বাড়ি। ফের গ্রাম্য সালিশি। সালিশিতে পূর্বের সকল সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়। এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নগদ ৪ লাখ টাকায় মিমাংসা। সাথে সন্তান প্রসব হলে সস্তান থাকবে বৃদ্ধ বাবার কাছে। কিশোরী স্ত্রী নিবে তালাক ।
উল্লেখ্য প্রসবের সময় মা ও সন্তান যে কারো মৃত্যু হলে উভয় পক্ষের কেউ দায়ী নয় । এই মর্মে
৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে লিখিত অঙ্গীকারনামা
হয়েছে।
ধর্ষক জীবন উদ্দিনের ভাষ্য ঘটনা ঘটেছে বলেই বিয়ে করেছি। গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়েছে সন্তান হলে সন্তান আমার কাছে থাকবে,স্ত্রী তালাক নিবে। আর্থিক লেনদেনের বিনিময়ে আমরা উভয় পক্ষ সম্মতি পোষণ করেছি। ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ আবুল কালাম আজাদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাটি এলাকার সবাই জানে। গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমেই সমাধানের চেষ্টা হয়েছে।