মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত ওয়াজিবের পুরো পরিবার

Date: 2024-10-20
news-banner

 

আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):

 

নরসিংদী জেলার পলাশ থানাধীন ডাংগা বাজারস্থ কাজিরচর গ্রামের মৃত আলাউদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী মৃত রিনা বেগমের চার ছেলে ১. ওয়াজিব, ২. ইব্রাহিম মিয়া, ৩. ইসমাইল ও ৪. ইউসুফ মিয়া এবং তিন মেয়ে ১. রানু, ২. আমেনা খাতুন, ও ৩. মাসুদা আক্তারসহ পুরো পরিবারটি তাঁদের একমাত্র মাথা গোঁজার ঠাঁই হারানোর ভয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন।

 

জানা যায় যে, নরসিংদী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহন শাখার কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা (পরিচিতি নং- ১৬.১২৬) কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও জারিকৃত (জারির নম্বর-০৭/১৩৬, তারিখ-১১/০২/২০১৯ খ্রি.) নোটিশ মোতাবেক জনপ্রশাসন ও জনস্বার্থমূলক উদ্দেশ্যে স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহন ও হুকুমদখল আইন ২০১৭ (২০১৭ সনের ২১ নম্বর আইন) এর ৪ ধারার অধীনে “পাঁচদোনা-ডাংগা-ঘোড়াশাল” সড়ক নির্মাণ প্রকল্প (৫ম অংশ) এর জন্য “কাজিরচর” মৌজাস্থিত ১৩৮৫ নং দাগে ০.২১৫০ ও ১৪০০ নং দাগে ০.৩৪ একর সম্পত্তি অধিগ্রহনের প্রস্তাব করা হয়। পরবর্তীতে ভূমি অধিগ্রহন শাখার ১০/০৮/২০২২ খ্রি. তারিখ জারিকৃত (জারির নম্বর-৮৯) অপর একটি নোটিশ অনুযায়ী দেখা যায় যে, “কাজিরচর” মৌজাস্থিত ১৪০০ নং দাগে অধিগ্রহনের জন্য প্রস্তাবিত জমির পরিমান ০.৩৬ একর।

 

ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মৃত আলাউদ্দিনের ছেলে ওয়াজিব এর অভিযোগ, উল্লেখিত দাগে অধিগ্রহনকৃত সম্পত্তিতে তাঁদের ৪.৭০ শতাংশ ভূমি রয়েছে এবং ওই ভূমিতে তিন তলা ফাউন্ডেশনের উপর দুই তলা বিশিষ্ট একটি বাড়ি রয়েছে। সেখানে তাঁরা পরিবার-পরিজন নিয়ে বছরের পর বছর ধরে বসবাস করছেন। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহন শাখা হতে জারিকৃত দু’টি নোটিশের কোনোটিতেই তাঁদের কারো নাম নেই এবং সরকারি এওয়ার্ড বহিতেও কারো নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই। অথচ তাঁদের নামে আর.এস রেকর্ড মোতাবেক খতিয়ান নং-২১০০ এবং তাঁদের বাবার নামে বি.আর.এস খতিয়ান নং- ৫৯৯ রয়েছে। যার ভূমি উন্নয়ন কর ১৪২৯ বঙ্গাব্দ পর্যন্ত পরিশোধও করা আছে।

 

ভুক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন, সরকারি নোটিশ ও এওয়ার্ড বহিতে নাম না থাকার কারনে তাঁরা ক্ষতিপুরণের টাকার জন্য আবেদন করতে পারছেন না। ইতোমধ্যে তাঁদের প্রতিবেশী ও আশেপাশের অনেকেই ক্ষতিপূরণের টাকা তুলে নিজেদের মতো গুছিয়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সুরাহা না করে সড়ক কর্তৃপক্ষ তাঁদের বসবাসের ভবনটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য তাগাদা দিচ্ছেন। সর্বশেষ গত রবিবার (১৩ অক্টোবর) সড়ক কর্তৃপক্ষের পরিচয় দিয়ে মোটরবাইকযোগে তিনজন লোক এসে মৌখিকভাবে বলে গেছেন যে, “আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ভবনটি ভেঙ্গে ফেলবেন”। তারা ভূক্তভোগী ওয়াজিবকে জাহিদ নামে সড়ক কর্তৃপক্ষের একজনের সাথে মুঠোফোনে কথাও বলিয়ে দেন। এই প্রতিবেদন তৈরির সময় এ বিষয়ে কথা বলার জন্য গতকাল (১৯ অক্টাবর) সন্ধ্যায় জাহিদের মুঠোফোনে কল করে কোনো সাড়া পাওয়া যায় নাই।

 

এমতাবস্থায় ভুক্তভোগীরা কি করবেন, কোথায় যাবেন এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে মাথা গোঁজার ঠাঁই কোথায় হবে, তা নিয়ে এক আতংকিত সময় পার করছেন। 

Leave Your Comments