এলজিইডি’র হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের সম্পদের পাহাড়

Date: 2024-10-28
news-banner


নিজস্ব প্রতিবেদক 

 স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মােঃ মাহবুবুর রহমান। অবৈধভাবে অর্জিত অর্থে সম্পদের পাহাড় গড়ার অভিযোগ উঠেছে। 

সুকৌশলে প্রধান সহকারী পদ বাগিয়ে নিয়োেগ, বদলি পদােন্নতিসহ যাবতীয় প্রশাসনিক কাজ অবৈধভাবে করে তিনি এই সম্পদের অধিকারী হয়েছেন। তার সম্পদের পরিমাণ ১৫ কোটি টাকারও বেশি!
 চাকুরীতে বহাল বাবদ এ পর্যন্ত সরকারি কোষাগার থেকে সর্বসাকল্য বেতন পেয়েছেন ১ কোটি টাকার মত। স্বাভাবিকভাবেই তার এই বিপুল সম্পত্তি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সাধারণ জনমনে।

যেভাবে চাকুরিতে:
মােঃ মাহবুবুর রহমান ১৯৮৮ ইং সালে জাতীয় পার্টির বগুড়ার জনৈক এমপির সুপারিশের মাধ্যমে স্টেনাে গ্রাফার পদে ঢাকুরীতে যােগদান করেন। স্ত্রী সুফিয়া খাতুন স্টেনাে টাইপিস্ট হিসেবে রংপুরে যােগাদান করেন। পরবর্তীতে স্বামী মাহবুবুর রহমান এর ক্ষমতাবলে হিসাব
রক্ষক পদে পদবী পরিবর্তন করে বর্তমানে হিসাব রক্ষক হিসেবে প্রকল্পে কর্মরত আছেন। চাকুরীতে যােগদানের পরে মাত্র ৫ বছর পর ১৯৯৩ সালে মাহবুবুর রহমান অবৈধভাবে তৎকালীন প্রধান প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিককে ব্যবহার করে প্রায় ৫০ জন কর্মচারী তার
সিনিয়র থাকা সত্তেও সুকৌশলে প্রধান সহকারীর পদ বাগিয়ে নেন। তার পর থেকে তিনি ২০০० সাল পর্যন্ত প্রধান সহকারীর দায়িত্ব চতুরতার সাথে পালন করেন। প্রধান সহকারী হওয়ায় নিয়ােগ, বদলী, পদোন্নতিসহ যাবতীয় প্রশাসনিক কাজ অবৈধভাবে করে কাউকে কোন তোয়াক্কা না করে দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ-বিত্তের মালিক বনে যান।

তার যত সম্পদ:
অবৈধ পন্থায় দূর্নীতি করে মােঃ মাহবুবুর রহমান ঢাকাতে ৬০ ফুট সংলগ্ন পাপলা হাউজিং-এ ৩ ইউনিট বিশিষ্ট ৫ তলা বাড়ীর মালিক হয়েছেন। যার বর্তমান মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা। তাঁর বড় মেয়েকে বে-সরকারী মেডিক্যাল কলেজ থেকে বিপুল অর্থ খরচ করে ডাক্তারি পড়িয়েছেন। ২য় মেয়েকে বে-সরকারী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়িয়েছেন। ৩য় মেয়েকেও বে-সরকারী ব্রাক-বিশববিদ্যালয় থেকে বিপুল অর্থ খরচ করে ইঞ্জনিয়ারিং পড়িয়েছেন। দ্বিতীয় ও তৃতীয় মেয়েকে বিপুল অর্থ খরচ করে ইঞ্জিনিয়ারিং-এ মাস্টার্সও পড়িয়েছেন। ২০০০ সাল থেকে তিনি পিডি জাহাঙ্গীর আলমের প্রকল্পে প্রেষণে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা পদে কর্মরত থেকে কয়েক বছরে জালিয়াতির মাধ্যমে প্রেষণাদেশ প্রত্যহার দেখিয়ে ৩০ জন লােককে বিপুল পরিমাণ অর্থের বিনিময় অবৈধভাবে নিয়ােগ দেন।

এছাড়াও তিনি তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী শাহনেওয়াজ এর বেলারুশ প্রকল্পের দূর্নীতির সাথে ওতপ্রাতভাবে জড়িত, যার মামলা এখনো চলমান। তিনি তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী শাহনেওয়াজকে প্রোরোচিত করে বেলারুশ প্রকল্পের দূ্নীতির মাধ্যমে তাকে ফাসিয়ে অবৈধ অর্থ হাতিয়ে নেন। এছাড়াও তিনি তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম আকন্দ এর সময় রােড রােলার ক্রয়ের টেন্ডার জালিয়াতির মাধ্যমে ফাস্ট লােয়েস্টকে কাজ না দিয়ে থার্ড লােয়েস্ট ঠিকাদার কবির সরকারকে কাজ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন বলে প্রমানিত।

একাধিক সূত্রে আরও জানা যায়, তিনি বেগম সালমা সহিদের প্রকল্পে হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা থাকাকালীন নগর ব্যবস্থাপনা ইউনিট থেকে অবৈধ ভাউচারের মাধ্যমে সাপ্লায়ার রেজাউল করিমের যােগসাজসে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্নসাত করেছেন। গত ঈদুল আযহায় নগর ব্যাবস্থাপনা ইউনিট এর আওতাধীন ৩৫ প্রকাল্প হতে ২৫ হাজার টাকা করে ওই ইউনিটের কর্মচারীদের ঈদের বকশিস এর নামে ৮,৭৫,০০০/- (আট লক্ষ পচাত্তর হাজার) টাকা আত্মসাত করেছেন। উপরােন্ত ১৯৯৩ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত প্রধান সহকারী পদে থাকা কালীন ইস্যুখাতা ও ফাইল গায়েবের সুম্পষ্ট অভিযােগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

জনতার মঞ্চের আনসার আলী খানের ভাই ইকরামের সাথে ট্রেনিং এর অর্থ কমিশন বানিজ্যে দীর্ঘদিন যাবত সক্ষ্যতা গড়ে তুলেছেন হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান।

এছাড়াও তিনি সাপ্লায়ার রেজাউল করিমের কাছ থেকে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে প্রতি সপ্তহে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা করে উৎকোচ নেন। উপরন্ত রােড রােলার ক্রয়ের ঠিকাদার কবিরের কাছ থেকে এককালিন ৬০ লক্ষ টাকা কমিশন বানিজ্য করেছেন। বর্তমানে এলজিইডি সদর দপ্তরে প্রধান সহকারী দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রশাসনিক ক্ষমতা কুক্ষিগত করার লক্ষ্যে কাজ করছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে আরও জানা যায়, তিনি জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও বগুড়ায় বাড়ী হওয়ার সুবাদে এখন নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। এবং বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে ফায়দা লুটছেন।

প্রতিবেদন প্রকাশ করার স্বার্থে উক্ত বিষয় নিয়ে এলজিইডি’র হিসাব রক্ষন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে  মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেননি। বিস্তারিত   পরবর্তী সংখ্যায়।

Leave Your Comments