সাবেক এসআই তারা মিয়ার অবৈধ সম্পদের পাহাড় দুদকে অভিযোগ।

Date: 2024-10-28
news-banner

  
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে রাজধানী খিলগাঁও এলাকায় সাবেক এস আই তারা মিয়ার বিরুদ্ধে  দুর্নীতি করে কোটি কোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ এসেছে। 

 ঢাকার খিলগাঁওস্থ মধ্য নন্দীপাড়ার ৫/এ রোডে গিয়ে দেখা মিলল 'খুশি ভিলা' নামের ০৭ তলা ভবনের। ভবনটির মালিক গোপালগঞ্জের বাসিন্দা সাবেক এসআই তারা মিয়া। কয়েক বছর আগে তিনি চাকরি থেকে অবসর নিয়েছেন। চাকরিকালীন বিভিন্ন সময় তিনি কারারক্ষী এবং বিমানবন্দরের পোস্টিং পেয়েছিলেন। সেই সময় ঘুষ-বাণিজ্য এবং স্বর্ণ চোরাচালানোর সঙ্গে তারা মিয়া জড়িয়ে পড়েছিলেন বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

এভাবে অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থে সাবেক এসআই তারা মিয়া ঢাকাসহ নিজ জেলায় গড়ে তুলেছেন সম্পদের পাহাড়। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক এসআই তারা মিয়ার অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান চেয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, খুশি ভিলা' ছাড়াও ঢাকা খিলগাঁও নন্দীপাড়ায় আরও একটি ০৭ তলা ভবন রয়েছে। 

এ ছাড়াও শেখের জায়গায় কোটি টাকা মূল্যের ১০ কাঠা জমি ক্রয় করেছেন তারা মিয়া। পশ্চিম মাদারটেক বাসাবোতে ৭৫ লক্ষ টাকা মূল্যের একটি বিলাসবহুল ফ্লাট ক্রয় করে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন পুলিশের সাবেক এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা (ফ্ল্যাটের ঠিকানা- ইব্রাহিম কটেজ, ৯৭, পশ্চিম মাদারটেক, বাসাবো, ঢাকা)।

তারা মিয়ার চেয়ে বিত্ত-বৈভবে পিছিয়ে নেই তার স্ত্রী খুশি। কোন ধরনের উপার্জনের সঙ্গে জড়িত না থাকলেও তার নামে রয়েছে বাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট ও শত ভরি স্বর্ণালংকার।
অভিযোগের আলোকে সরেজমিন অনুসন্ধানে সাবেক এসআই তারা মিয়া ও তার স্ত্রী খুশি'র নামে অবৈধ সম্পদের সত্যতা মিলেছে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদক-এর একজন কর্মকর্তা সাপ্তাহিক বার্তা বিচিত্রা কে বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে সাবেক এসআই তারা মিয়ার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। 

তিনি আরও বলেন, নিম্ন পদে চাকরি করে এত বিপুল পরিমাণে অর্থবিত্তের মালিক হওয়া নজির নেই। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক খিলগাঁও নন্দীপাড়া এলাকার একজন মুরুব্বী বলেন এসআই পদে চাকরি করে এত সম্পদের মালিক হওয়া একটা অবিশ্বাস্য ব্যাপার। 

আরো অভিযোগ রয়েছে  জেলের কারারক্ষী থাকা অবস্থায় হাজতি আসামীদের আত্মীয়দের কাছ থেকে অবৈধ ভাবে জেলের ভিতর টাকা প্রবেশ করেই নিতো মোটা অংকের কমিশন, এ কমিশন বাণিজ্য করেই মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করত এসআই তারা মিয়া।  

এদিকে এত বিপুল পরিমাণে সম্পদের ব্যাপারে তারা মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন।

অন্যদিকে তারা মিয়ার স্ত্রী খুশি উল্লেখিত সম্পদগুলো তার স্বামীর বলে প্রতিবেদকের নিকট স্বীকার করেছেন। অবৈধ সম্পদের আরো তথ্য নিয়ে বিস্তারিত আসছে আগামী সংখ্যায়।

Leave Your Comments