সাতক্ষীরায় আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

Date: 2024-10-28
news-banner

 

সাইফুল আজম খান 


সাতক্ষীরায় আলোচিত ও সমালোচিত আওয়ামী লীগ নেতা সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদরের রসুলপুর গ্রামের জহুর আলী সরদার এর ছেলে নারিকেলতলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মজনু সরদার বাদী হয়ে মোট ৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। গত বৃহষ্পতিবার রাতে সাতক্ষীরা সদর থানায় এ মামলা দায়ের করা হয়।

জানা গেছে, ৫ লক্ষ টাকা চাঁদার দাবিতে শ্রমিক নেতাকে মজনু সরদার কে মারপিট করে ৬০ হাজার টাকা আদায় এর অভিযোগে সাতক্ষীরার আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা ও দুই পত্রিকার সম্পাদক সহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 আসামীরা হলেন, সাতক্ষীরা শহরের রসুলপুর গ্রামের মৃত কোমরউদ্দিনের ছেলে ও জেলা আওয়ামী লীগের সহঃ সভাপতি এবং  দৈনিক কালের চিত্র পত্রিকার সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু আহম্মেদ, আশাশুনি উপজেলার কুল্ল্যা ইউনিয়নের মহাজনপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাতক্ষীরা থেকে প্রকাশিত দৈনিক সাতনদী পত্রিকার সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তুজুলপুর গ্রামের ইসহাক মোড়লের ছেলে  আওয়ামী লীগ নেতা ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল সমাজের আলো ডট কম এর সম্পাদক (গাছের পাঠশালা) ইয়ারব হোসেন ও ঢাকার লালমাটিয়ার আমীর হোসেনের ছেলে খোরশেদ আলম। 

মামলা সুত্রে প্রকাশ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন আসামিরা উচ্চ পর্যায়ের নেতা হওয়ায় বিভিন্ন সময় মামলার বাদী মজনু সরদার এর নিকট চাঁদা দাবি করে আসছিলো। একপর্যায় চাঁদার টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় বাদিকে ভিটাছাড়া করা সহ খুন ও জখমের হুমকি অব্যাহত রাখে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ মার্চ রাত ৯ টার দিকে আওয়ামী লীগ নেতা আবু আহম্মেদ এর নেতৃত্বে   হাবিবুর রহমান, ইয়ারব হোসেন ও ঢাকার খোরশেদ আলমের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জন একটি সাদা রং এর মাইক্রোবাসে করে বাদীর বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। তাৎক্ষণিকভাবে  বাদীর কাছে উল্লেখিত ব্যক্তিরা ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে বাদীকে বেধড়ক মারপিট করে। এসময় আসামীরা ঘরে ঢুকে বাদীর আলমারি থেকে নগদ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে নেয়। 

আসামিরা বাকি চার লাখ ৪০ হাজার টাকা নেওয়ার জন্য বাদীকে মাইক্রোবাসে তুলে দু’চোখ বেঁধে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঘোরায়। পরে তাকে মেডিকেল কলেজ থেকে ছয়ঘরিয়া মোড়ের মধ্যবর্তী ফাঁকা স্থানে ফেলে রেখে চলে যায়।

 তৎকালীন সময় বাদীর পক্ষে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় মামলা করা সম্ভব হয়নি। এমতাবস্থায় বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকুলে থাকায় ভুক্তভোগী মজনু সরদার গত ২৪-১০-২৪ তারিখ সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলা দায়ের করেন, যাহার মামলা নং ৩২।

এদিকে উল্লেখিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শফিকুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন।

Leave Your Comments