পলিথিনের বিকল্প-সোনালী ব্যাগ?

Date: 2024-11-11
news-banner


মাসুদুর রহমান
খুলনা প্রতিনিধি:

দেখতে হুবহু প্লাস্টিকের ব্যাগ মনে হলেও এটা প্লাস্টিক নয়। পাট থেকে তৈরি করা সোনালী ব্যাগ। ব্যবহারের পর মাটিতে ফেললে কিছুদিনের মধ্যেই মাটির সঙ্গে মিশে জৈব সার হিসেবে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করবে। রাস্তাঘাটে ফেললে সেটা ড্রেনে পৌঁছুলেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে না। কারণ কিছুদিন পর তা জলের সাথে মিশে মাছের খাদ্যে পরিণত হবে। সোনালী ব্যাগ হল একটি বায়োপ্লাস্টিক থেকে তৈরি বায়োডিগ্রেডেবল ব্যাগ যা বাংলাদেশে প্লাস্টিকের ব্যাগের বিকল্প হিসাবে উদ্ভাবিত হয়েছিল। ব্যাগগুলি গোল্ডেন ব্যাগ, জুট পলিমার বা পরিবেশ বান্ধব পলি ব্যাগ নামেও পরিচিত।

১-কিভাবে পেতে পারি?
ইচ্ছে করলেই হয়। আসলে ভালো কিছু আমাদের চোখেই পড়েনা। কল্যাণকর কিছু ভালো লাগে না। মনে হয় কি প্রয়োজন। আসলে এগুলো বাজারে আসলে সবাই কিনবে। তখন, এখনকার পলি বেগগুলো সরে যাবে, আর এটা বাজারজাত করতে সরকারের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন ছিল কেন এই গোল্ডেন ব্যাগ, বাজারে পাওয়া যায়না। তবে চাইলে এই বর্তমান সরকার সোনালী পলিজুট ব্যাগ বাজারজাত করণে ভূমিকা পালন করতে পারে।

২-দাম কেমন;
দাম কেমন হবে, তার উপর এর সাফল্য অনেক নির্ভর করবে। ব্যাপকভাবে উৎপাদন করা গেলে এর দাম অনেক কম হবে। সেই জন্য সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন দরকার।
এই ব্যাগ এর যে মূল্য তাতে মিনিমাম ২০০ টাকার পণ্য কিনলে একটা ব্যাগ দেয়া সম্ভব। ০৫-১০ টাকার পণ্য কিনলে এই ব্যাগ দেয়া সম্ভব না। কারণ সোনালী এই ব্যাগ বিক্রি হয় প্রায় ১০ টাকায়। তবে, অনলাইন সাইটগুলি প্রতিটি ব্যাগ ১৫ টাকায় বিক্রি করতে পারে।
কিন্তু পলিথিনের বিকল্প হিসেবে যেটাই বের করেন দামে যেটা সস্তা পাবলিক সেটাই ব্যাবহার করবে।

৩-বাজারে আসছে না কেন?
এটি বর্তমান পলিথিনের একটি বিকল্প কিন্তু অতটা সস্তা নয়। আসলে আমাদের কেন পলিথিন বর্জন করা প্রয়োজন তা আমাদেরকে আগে ভালো করে বুঝতে হবে এবং অবশ্যই তা জানতে হবে আর এটি করতে হলে আমাদের মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে। আরো মনে রাখতে হবে যে পলিথিন ছাড়া আমরা যেমন ৪০ বছর আগেও চলেছিলাম তখন যেহেতু কোন অসুবিধা হয়নি আর এখন ও মনে হয় না যে আমাদের তেমন কোনো অসুবিধা হবে। সহজ রাস্তায় চললে সব সময় স্বার্থ রক্ষা হয় না। বড় বড় অর্জন কঠিন রাস্তায়ই হয়ে থাকে।

৪-বাজারে আশা দরকার।
বহু দিন থেকে এসব নিয়ে ফেইসবুকে, পত্রিকায় খবরই দেখে/শুনে আসছি কিন্তু পলিথিন এর বিকল্প আজও তৈরী হলো না। চাহিদা থাকা সত্ত্বেও এসব বাজারে নেই। এটা নিয়ে জরুরী ভাবে কাজ করা উচিৎ ছিলো কিন্তু তৎকালীন আওয়ামী সরকারের এদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিল নাহ, কারণ তৎকালীন আওয়ামী সরকার সাহায্য করলে অনেক আগেই বাজারজাত হতো, কিন্তু তারা তা না করে তারা উল্টো তাদের উপর আক্রমণ শুরু করে যারা এই সোনালী পলিজুট ব্যাগ বিক্রি করতে চেয়েছিল এবং এই সোনালী পলিজুট ব্যাগ বাজারে আসার আগেই তারা মাফিয়া চক্র তৈরি করেছিল যেন কেউ এই সোনালী পলিজুট ব্যাগ বাজারে বিক্রি করতে না পারে সেজন্য তাদেরকে (মাফিয়া) তৈরি করেছিল কারণ এই সোনালী পলিজুট ব্যাগ ব্যাগ বাজারে আসলে পলিথিন ব্যবসায়িরা মার খাবে,এই ব্যাগ ই সম্পূর্ণ তৈরী করতে দেয় নাই তৎকালীন আওয়ামী সরকার।আর তা না হলে কেন এই প্রযুক্তি ডেমরাতে “লতিফ বাওয়ানী জুট মিল” নামে একটি প্রতিষ্ঠানে এই সোনালী পলিজুট ব্যাগ তৈরী করার জন্য কাজ শুরু করেছিল এবং তা তৎকালীন আওয়ামী সরকার তখন এই কারখানা বন্ধ করে দিছিল শুধু এই কারখানাটিই বন্ধ করে দেয় নাই তারা এই একই ধরনের আরো ৬৩ টা জুট মিলই বন্ধ করে দিয়েছিল।

৫-এর ব্যবহার বাড়াতে হলে দ্রুত বাজারজাত করতে হবে;
অনেকদিন ধরে এটা দেখছি কিন্তু সরকারি বা বেসরকারি কোন পর্যায়েই এটা বাজারে চালুর ব্যাপারে কোন উদ্যোগ নিচ্ছে না। বানিজ্যিক ভাবে এটি দ্রুত শুরু করতে হবে আর পলিথিন বন্ধ করতে হবে। এই ব্যাগের এখনও মার্কেটিং পলিসি শুরু হয় নি তাই এটা দ্রুত বাজারজাত করতে হবে। 
সার্বজনীনভাবে ব্যবহার করার জন্য বাজারে পর্যাপ্ত যোগান দিতে হবে।এই পণ্যের বাজারজাত করে দিতে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

সাধারণ জনগণের জন্য সহজলভ্য করার উদ্যোগ নিলে পলিথিন তখন আর ব্যবহার করবে না।

Leave Your Comments