খালেদা আক্তার মুন্নি হত্যার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার-০২জন।

Date: 2024-11-17
news-banner



মাসুদুর রহমান
খুলনা প্রতিনিধি:

চুয়াডাঙ্গা আলমডাঙ্গা থানাধীন ভাংবাড়ীয়া গ্রামস্থ খোয়াজ আলী শেখ এর কন্যা খালেদা আক্তার মুন্নি(১৮) গত ০৯ নভেম্বর ২০২৪ তারিখ দুপুর আনুমানিক ১২:০০ টার দিকে হাটবোয়ালিয়া বাজারে কেনাকাটা করার উদ্দেশ্যে বাড়ী থেকে বের হয় এবং একই দিনে সন্ধ্যা ০৬:০০ ঘটিকায় তার মা’কে ফোন করে জানায় কেনাকাটা করতে রাত হবে তাই সে বাড়ি না ফিরে আলমডাঙ্গায় তার খালার বাসায় থাকবে বলে সে তার মাকে জানায়।

 পরে খালেদা আক্তার মুন্নির মা তার সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় পরে তার খালার কাছে ফোন দিয়ে বিষয়টি জানালে খালেদা আক্তার মুন্নি খালা জানান খালেদা আক্তার মুন্নি তার বাসায় আসে নাই। এমতাবস্থায় ভিকটিমের মা বাদী হয়ে  গত ১০ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১১,ধারা-৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড দায়ের করেন। কিন্তু গত ১৪ নভেম্বর ২০২৪ তারিখ সকাল ০৮:০০ ঘটিকায় চুয়াডাঙ্গা হাজরাহাটি-বোয়ালমারী গ্রামের একটি মাঠ থেকে অজ্ঞাতনামা একটি মহিলার অর্ধগলিত(পোকা ধরে গেছে) লাশ উদ্ধার করা হয় এবং উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় জানা না গেলে পূর্বক ভিকটিমের পরিবারকে সংবাদ দিলে ভিকটিমের পরিবার ঘটনাস্থলে পৌছে ভিকটিমের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ট্যাটু দেখে লাশটি খালেদা আক্তার মুন্নি’র বলে তা প্রমাণ করে তার বাবা মা।

চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার জনাব খন্দকার গোলাম মওলা,বিপিএম-সেবা মহোদয় তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার মূলরহস্য উদঘাটনসহ ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতারের জন্য প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পুলিশ সুপার মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় জনাব মোঃ রিয়াজুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন ও অর্থ)(পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতি প্রাপ্ত),অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্), চুয়াডাঙ্গা এবং জনাব আনিসুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল), চুয়াডাঙ্গার নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনার মূলরহস্য উদঘাটন এবং ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত আসামীকে গ্রেফতারের লক্ষে মাঠে নামে। অবশেষে ডিবি, চুয়াডাঙ্গার চৌকস টিম অভিযান পরিচালনা করে ১৫ নভেম্বর ২০২৪ তারিখ রাত ০২:৩০ ঘটিকায় ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত আসামীদ্বয়কে নিজ বাড়ী থেকে গ্রেফতার করে।

 গ্রেফতারকৃত আসামীরা হলোঃ-
১। মোঃ মানিক আলী ওরফে মানিক মুন্সি(২২), 
পিতা-মোঃ টোকন আলী, 
২। পারভেজ মুন্সি ওরফে স্বপন(১৯), 
পিতা-মোঃ মইদুল ইসলাম, 
তারা উভয়েই সাং-হাজরাহাটি শেখপাড়া,থানা ও জেলা-চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা বলে জানা যায়।

ঘটনার বিষয়ে আসামী মানিক আলী ওরফে মানিক মুন্সি(২২) জানায় গত ৬ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে আসামী মানিক আলী ও তার বন্ধুরা বড়গাংনীতে খালেদা আক্তার মুন্নির সাথে টাকার বিনিময়ে অনৈতিক সম্পর্ক করার জন্য নিয়ে আসে এবং পরে খালেদা আক্তার মুন্নি স্থানীয়দের সহযোগীতায় তাদেরকে ব্লাকমেইল করে তাদের কাছ থেকে প্রায় বিশ হাজার টাকা আদায় করে। অতঃপর আসামী মানিক মুন্সি খালেদা আক্তার মুন্নির উপর রাগের বশবর্তী হয়ে প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে। 

আসামী মানিক মুন্সি আরো জানান যে গত ০৯ নভেম্বর ২০২৪ তারিখ বিকালে ফোনকলের মাধ্যমে আসামী মানিক মুন্সির সাথে ভিকটিম খালেদা আক্তার মুন্নি সারারাত বিশ হাজার টাকার বিনিময় অনৈতিক কাজ করতে সম্মত আছে বলে জানায়। 

এবং পরের দিন সন্ধ্যায় আনুমানিক ০৭ ঘটিকায় খালেদা আক্তার মুন্নি সদর থানাধীন বোয়ালমারি নীলমনিগঞ্জ পিটিআই মোড়ে পৌঁছালে আসামী মানিক মুন্সি তার বন্ধু পারভেজ মুন্সি ওরফে স্বপনকে (১৯) মোবাইল করে তাকে তার মোটরসাইকেল নিয়ে বোয়ালমারি নীলমনিগঞ্জ পিটিআই মোড়ে আসতে বলে এবং সেখান থেকে খালেদা আক্তার মুন্নিকে নিয়ে তার নিকট যাওয়ার জন্য বলে। 

পরে পারভেজ মুন্সি পিটিআই মোড় থেকে  খালেদা আক্তার মুন্নিকে রিসিভ করে বোয়ালমারি শ্বশানের রাস্তার ফাঁকা জায়গায় আসামী মানিক মুন্সির নিকট নিয়ে আসে এবং খালেদা আক্তার মুন্নিকে তার কাছে “মানিক মুন্সি” কাছে রেখে পারভেজ মুন্সি ওরফে স্বপন ঘটনাস্থল থেকে চলে গেলে মানিক মুন্সি খালেদা আক্তার মুন্নিকে সাথে নিয়ে পানবরজের পিছনের জঙ্গলে নিয়ে যায় এবং খালেদা আক্তার মুন্নির সাথে একাধিক বার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে। 

মানিক মুন্সি শারীরিক সম্পর্কের পরে খালেদা আক্তার মুন্নিকে পাঁচ হাজার টাকা দিতে গেলে খালেদা আক্তার মুন্নি পাঁচ হাজার টাকা টাকা নিতে অসম্মতি প্রকাশ করে এবং খালেদা আক্তার মুন্নি চিৎকার শুরু করে এমতাবস্থায় মানিক মুন্সি “খালেদা আক্তার মুন্নির” গলা চেপে ধরে তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় এবং খালেদা আক্তার মুন্নি উপুড় হয়ে মাটিতে পড়ে যায় আর খালেদা আক্তার মুন্নি উপুড় হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে সাথে সাথেই মানিক মুন্সি তার পিঠের উপর বসে গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে এবং হত্যার পর তাকে ওড়না দিয়ে হাত বেধেঁ জঙ্গলের ফেলে রেখে মানিক মুন্সি “ খালেদা আক্তার মুন্নির” শপিং ব্যাগ ও জুতা নদীতে ফেলে দেয়। 

ঘটনার বিষয়ে আসামী “মানিক মুন্সি” নিজেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে।

Leave Your Comments