স্টাফ রিপোর্টার
স্হানীয় সুত্রে জানা যায় রাজধানীর ডেমরায় অবস্থিত শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লা এক সময় মাতুয়াইল কবরস্থান সংলগ্ন সেলুন ব্যবসায়ী থাকলেও আত্মীয়তার হাত ধরে শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ হয়ে পেয়ে গেছেন আলাউদ্দিনের চেরাগ।
নানা অনিয়ম আর দুর্নীতিতে ডুবে আছে ডেমরার এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিএনপি'র শাসনামলের পর থেকেই মাহবুর রহমান মোল্লার আর যেন পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। গত আওয়ামী লীগের শাসনামলের ১৭ বছরের প্রায় শত শত কোটি টাকার মালিক হয়ে গিয়েছেন এই দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ।
সংসদীয় আসন ১৭৮ ঢাকা - ৫ আসনের আওয়ামী লীগের যেই সংসদ সদস্য হয়েছেন তাকেই ম্যানেজ করে গড়েছেন এই অবৈধ সম্পদ। পাশাপাশি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সকল সচিব ও শিক্ষামন্ত্রীদের টাকার বিনিময়ে ঘুম পরিয়ে রাখতেন, শিক্ষামন্ত্রী নাহিদ,দিপু মনি ও নওফেলসহ সকল মন্ত্রীকেই এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ম্যানেজ করেই চলতেন পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী কম দেখিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক টাকা অবৈধভাবে সরিয়ে ফেলতেন, ছাত্র-ছাত্রী কম দেখানো স্বাক্ষরিত কাগজ অডিট টিমের কাছে উপস্থাপন করতেন।
১৯৮৯ সালের ঢাকার ডেমরা থানাধীন নিজ কৃষি জমি টি স্কুলের জন্য দান করেন মরহুম শামসুল হক খান তৎকালীন বিএনপির সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আহমেদের সার্বিক সহযোগিতায় ও তত্ত্বাবধানে স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন হতে শুরু করে পাশাপাশি অত্র অঞ্চলের বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত অভিভাবক এবং জনপ্রতিনিধিরা স্কুল উন্নয়নে এগিয়ে আসলেও এক সময় তাদের কাউকেই মূল্যায়ন করেনি এই দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ। ফাউন্ডেশন থেকে যারা জড়িত তাদের কাউকেই কোন উন্নয়ন কর্মকান্ডে রাখলেও স্কুলের হিসাব নিকাশের বেলায় তাদেরকে অন্ধকারে রাখত এই দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ, এভাবেই দিনের পর দিন সকলের উপর স্টিম রোলার চালিয়ে হয়ে উঠেন ক্ষমতাধর ব্যক্তি।
আওয়ামী শাসনামলে সংসদ সদস্যদের ম্যানেজ করে প্রতিবছর কোন না কোন কারণ দেখিয়ে ভর্তির ফি সরকারি ঘোষণা মোতাবেক এর চেয়েও দিগুন আদায় করা হত, এ ব্যাপারে কোন অভিভাবক অথবা স্কুল অভিভাবক প্রতিনিধিরা প্রতিবাদ জানাতে গেলেই তাদেরকে অপমান অপদস্থ করত এবং অভিভাবকদের বলতো আপনার সন্তানকে স্কুল থেকে নিয়ে যান। অত্র অঞ্চলে ঘনবসতি এলাকা অন্য বড় কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না থাকায় এবং মানুষের বসবাসে সুবিধার জন্য সন্তানকে কাছাকাছি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ানোর জন্যই বাধ্য হয়ে শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজেই ভর্তি করাতো, বিষয়টি দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লা টের পেয়ে আরো বেশি করে প্রতিবছর ভর্তি ফি বাড়ানো এবং বাধ্যতামূলক কোচিং ( নিয়মিত ক্লাসের পর অতিরিক্ত দুটি ক্লাস একই ক্লাসরুমে) ও পরীক্ষার ফি বেতন সমতুল্য করে সুযোগে সদ্ব্যবহার শুরু করে। ২০১৪ সালে বাংলা ভার্সনের পাশাপাশি ইংলিশ ভার্সন চালু করানো হয় যার পরিপ্রেক্ষিতে একটি জমজমাট শিক্ষা ব্যবসা শুরু করেন এই দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লা।
অত্র প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সদস্যরা ড: মাহবুবুর রহমান মোল্লার কথার বাইরে গেলেই তাদের নামে নানা অভিযোগ দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান থেকে বিতাড়িত করত। বর্তমানে অত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩৭৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাড়াও ১২০ জনের মতো কর্মচারীবৃন্দ রয়েছে
দুর্নীতির সহযোগিতাকারীরাও কোটিপতি :-
এরমধ্যে যারা মাহবুবুর রহমান মোল্লার দুর্নীতিকে সহযোগিতা করতো তারাও এখন কোটি টাকার মালিক যেমন দিবা শাখার প্রধান সোহরাব হোসেন, প্রগতি শাখার প্রধান আব্দুল মতিন, মাহবুব মোল্লার পিএস জাবেদ, এছাড়া মাহাবুব মোল্লার বিশেষ একজন শিক্ষক ছিল যার নাম রমজান মাসটার তাকে দিয়ে কোটি কোটি টাকার অ্যাপার্টমেন্ট ব্যবসা করানো হতো যা এখনো চলমান, সেই রমজান মাস্টারও এখন শত কোটি টাকার মালিক। মাহবুব মোল্লার স্কুলের সকল ভাউচারের সই করানোর জন্য পুতুল অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামসুদ্দিন ভূঁইয়া সেন্টুকে মনোনীত করেন আর এই শামসুদ্দিন ভূঁইয়া সেন্টুকে নিয়ে অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লা যেন হরি লুটের বন্যা বইয়ে দিয়েছে শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজে।
১৯৯২ সালের ৭০ টাকা রোজে কাজ করা রাজমিস্ত্রি লেবার শাহ আলম এখন কন্ট্রাকটর শাহ আলম কোটি টাকার মালিক, এই দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লা শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজ বিল্ডিং নির্মাণ ও মেরামত ভাউচারে কন্ট্রাক্টর শাহ আলমকে দিয়ে ইচ্ছামত টাকার অংক উপস্থাপন করাতো পরবর্তীতে মাহবুব মোল্লা সেই সকল ভাউচার অভিভাবক প্রতিনিধিদের দ্বারা সই করিয়ে নিতো।
দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ মাহবুব মোল্লা এর বিনিময়ে কন্টাকটর শাহ আলম কে বানিয়েছে কোটিপতি ও তার শালিকাকে শিক্ষিকা হিসাবে স্কুলে চাকরি প্রদান করে।
এবং এই শামসুল হক খান স্কুল এন্ড কলেজের অর্থ দিয়েই "ডঃ মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজ" নামের একটি প্রতিষ্ঠান তিনি গড়ে তুলেছেন শুধু তাই নয় রয়েছে বিলাসবহুল বাড়ি একাধিক প্লট, ফ্ল্যাট, মার্কেট ও কোটি টাকার গাড়ী সহ অসংখ্য সম্পদ।
জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের মুখে ৫ ই আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা ও অভিভাবকরা বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারছিল এই স্টিম রোলার চালানো অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লার হাত থেকে বাঁচারও প্রক্রিয়া খুজছিল এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা কোচিং ফি ও অতিরিক্ত ভর্তি ফি থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য রাজপথে আন্দোলন শুরু করলে অধ্যক্ষ মাহবুর রহমান মোল্লা বিভিন্ন রকম পাঁয়তারা ও ছাত্র সমন্বয়কারীদের অর্থ লোভ দেখিয়ে আন্দোলন থেকে সরে যেতে বলে।
দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান মোল্লার কোন অনিয়ম দুর্নীতি যাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ও জাতীয় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত না হয় সেজন্য সে তার স্ত্রীকে দিয়ে মোটা অংকের টাকা ও কোটি টাকার গাড়ির প্রলোভন দেখায়। বিস্তারিত পরবর্তী সংখ্যায়।