রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে টিসিবি’র পণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

Date: 2024-11-25
news-banner

 

আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):

 

দীর্ঘ লাইন যেন শেষ হতে চায় না। ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অনেকেই লাইনচ্যুত হয়ে সামনের দিকে এগিয়ে আসেন দেখার জন্য যে, ‘লাইনটা আশানুরুপভাবে কমছে না কেন?’ এসে দেখেন লাইন ছাড়াই সামনে থেকে অনেকে পণ্য (টিসিবি’র চাল, ডাল ও তেল) নিয়ে যাচ্ছেন। তা’ও আবার একেকজন ২ টা/ ৪ টা, এমনকি কেউ কেই ৮ টা/ ৯ টা করেও পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন। যারা পণ্য বিতরণ করছেন আর যারা লাইন ছাড়া এভাবে পণ্য নিয়ে যাচ্ছেন, তারা একে অপরের আপনজন কিংবা ঘনিষ্টজন বলে জনা যায়। লাইনের পেছনে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছেন যারা, তারা পণ্য পাবেন কি’না, সেই চিন্তার ছাপ তাঁদের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে।

 

এক পর্যায়ে দেখা যায়, পণ্য বিতরণের কর্তাব্যক্তি “আর মাল নাই” বলে পণ্য বিতরণ বন্ধ করে দিয়ে হঠাৎই ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে পণ্য বিতরণের পুরো দলটি স্থান ত্যাগ করে দ্রুত কোথাও চলে যায়। এ সময় পণ্য না পাওয়া মানুষগুলোর চেঁচামেচিতে এক হট্টগোলের পরিবেশ তৈরি হয়। তারা কর্তাব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ উত্থাপন করেন। ঘটনাটি রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকায়, টিসিবি’র পণ্য বিতরণ ও উপকারভোগীরা পণ্য না পাওয়াকে কেন্দ্র করে দৃশ্যমান একটি ঘটনা।

 

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার নির্ধারিত উপকারভোগী পরিবারের নিকট বিক্রয়ের নিমিত্তে ডিলারদেরকে পণ্য বরাদ্দ প্রদানের অনুমোদন প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণায়ের ২৬.০০.০০০০.১১৩.৯৯.০০৩.২৩.৭৭ নং স্মারকে পণ্য বিতরণের ক্ষেত্রে অনুসরণীয় বিভিন্ন বিষয়াবলীর মধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন যে,

১. ডিলারগণ টিসিবি’র গোডাউন থেকে পণ্যাদি উত্তোলনের পর স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে দোকান/ স্থানীয় প্রশাসন নির্ধারিত স্থানে পণ্য বিক্রয় করবেন।

২. প্রত্যেক ডিলার চালসহ টিসিবি’র বরাদ্দকৃত পণ্যের নির্ধারিত মূল্য সম্বলিত লিখিত ব্যানার দোকান/ বিক্রয় স্থানের সামনে সুন্দর ও সুদৃশ্য করে টাঙ্গিয়ে পণ্য বিক্রি করতে হবে।

৩. সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে নির্ধারিত উপকারভোগীদের নিকট পণ্য বিক্রয় করবেন।

৪. জনপ্রতি সর্বোচ্চ ০১ কেজি চিনি, ০২ কেজি মসুর ডাল, ০২ লিটার সয়াবিন তেল ০৫ কেজি চাল এবং ০১ কেজি খেজুর বিক্রয় করবেন। খেজুর মজুদ না থাকলে মসুর ডাল, তেল ও চাল দিয়ে বরাদ্দ শেষ করতে হবে।

 

রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে টিসিবি’র পণ্য বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে সরেজমিন ঘুরে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। সকাল ৯ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে নির্ধারিত উপকারভোগীদের নিকট পণ্য বিতরণের নির্দেশনা থাকলেও কেউ কেউ তাদের সুবিধামত সময়ে পণ্য বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন, আবার ইচ্ছে মত সময়ে “আর মাল নাই” বলে ঘোষনা দিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা কার্ডধারীদের পণ্য না দিয়ে স্থান ত্যাগ করে চলে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চুক্তিভিত্তিক অন্যের লাইসেন্স ব্যবহার করে টিসিবি’র পণ্য উত্তলোন ও বিক্রি করার অভিযোগও রয়েছে কারো কারো বিরুদ্ধে। এছাড়া মূল্য তালিকা সম্বলিত ব্যানার টাঙ্গানোসহ অন্যান্য কোনো নিয়মেরই তোয়াক্কা করছেনা তারা।

 

উপরন্তু পণ্য বিতরণ কার্যক্রম শুরু করবার আগেই প্রচুর পরিমাণ চাল, ডাল ও সয়াবিন তেল অন্যত্র সরিয়ে রেখে উপকারভোগীদের মাঝে টিসিবি’র পণ্য বিতরণে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন বলেও একাধিক সূত্রে জানা যায়। এতে করে ভুক্তভোগীদের মাঝে পণ্য না পাওয়ার বেদনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। টিসিবি’র পণ্য বিতরণে অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখুন “বার্তা বিচিত্রা”র আগামী সংখ্যায়। 

Leave Your Comments