মাসুদুর রহমান
খুলনা প্রতিনিধি:
মোংলা পৌর শহরের মাকড়ঢোন মোড় এলাকায় সোমবার আনুমানিক রাত সাতটার দিকে সবিতা মল্লিক (৫৫) নামে এক নারীকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে। নিহত সবিতা মল্লিক ছিলেন একজন সাবেক স্কুল শিক্ষক “সুনিল মল্লিকের” স্ত্রী।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, সোমবার ২৫-১১-২০২৪ তারিখে সন্ধ্যা ৭টার দিকে পৌর শহরের মেছের শাহ সড়কের বাসিন্দা তন্ময় বাসার (৩৫) “সুনীল মল্লিকের” বাড়িতে ঢুকেন। বাড়ীতে ঢুকেই তন্ময় বাসার বাড়ির মালিক সুনিল মল্লিকে খুঁজতে থাকেন বলে জানিয়েছে তার মেয়ে হ্যাপি মল্লিক।
সুনীল মল্লিক বাড়িতে না থাকায় তন্ময় বাসার তার স্ত্রী সবিতা মল্লিকে জিজ্ঞেস করেন সুনীল স্যার কোথায়। সবিতা মল্লিক বলেন- তিনি বাড়িতে নেই, প্রাইভেট পড়াতে গেছেন। তখন তন্ময় তাকে বাড়ির ভিতর থেকে রাস্তায় এগিয়ে দেয়ার জন্য বললে সবিতা মল্লিক তাকে রাস্তার দিকে এগিয়ে দিতে যান।
এগিয়ে দিতে গিয়ে বাড়ির পাশে পুকুর পাড় পর্যন্ত গেলেই তন্ময় তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং তার কাছে লুকিয়ে রাখা একটি ছুরি দিয়ে তার পেটে আঘাত করে এবং পরে তাকে পুকুরে ফেলে দেন। এরপর তন্ময় সেখান থেকে আবারো সুনীলের বাড়িতে যায় এবং তার মেয়ে হ্যাপী মল্লিক (২৫)কে মারধর করতে থাকেন এবং তাকেও গলা টিপে হত্যার চেষ্টা করে তবে হ্যাপী মল্লিক চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে তার চিৎকারে আশপাশের প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসতে থাকলে তন্ময় ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে আশপাশের প্রতিবেশীদের সাথে নিয়ে আহত হ্যাপী তার মাকে খুঁজতে বাহিরে আসে এবং সবাই বাহিরে এসে দেখে সবিতা মল্লিক পুকুরের পানিতে পড়ে আছে। প্রতিবেশীদের সহায়তায় হ্যাপি তার মাকে (সবিতা) পুকুর থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মৌসুমি ইয়াছমিন বলেন, বেশি রক্তক্ষরণ ও অন্যথায় পানিতে ফেলা দেওয়ার ফলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন বলে জানান। অভিযুক্ত তন্ময় মাকড়ঢোনের বিষ্ণু মন্ডল ওরফে কালুর ছেলে। তন্ময় পেশায় একজন ইজিবাইক চালক ছিলেন বলে জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা। তবে এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় স্থানীয়রা ও পুলিশ সুনিশ্চিত কোন তথ্য জানাতে পারেনি।
এ ঘটনায় মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, এটা নিশ্চিত একটি হত্যাকান্ড। হত্যাকারীকে আটক করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে বলে জানান মোঃ আনিসুর। প্রাথমিকভাবে এ হত্যাকান্ডের কোন ক্লু বা কোন আলামত ও পাওয়া যায়নি।
হত্যাকারীকে ধরা গেলে মূলরহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে বলেও জানান মোঃ আনিসুর। তবে এখনও এ ঘটনায় হত্যায় সম্পৃক্ত ওই যুবককে আটক করতে পারেনি পুলিশ।