মীমাংসার টাকা আত্মসাৎ ফেরত দিতে অস্বীকার অতঃপর ভুক্তভোগীর অভিযোগ

Date: 2024-12-04
news-banner

 

মো.আজাদ হোসেন 
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি :

দাম্পত্য কলহ মীমাংসার জেরে ৪ লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দেওয়ানগঞ্জের পাররামরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে । 

এ ঘটনায় দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা ও সেনা ক্যাম্পের কমান্ডিং অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী  মো. আমিনুল ইসলাম।  আমিনুল অত্র উপজেলার লংকারচরের মিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।  

ভুক্তভোগী আমিনুলের ভাষ্য,  ২০১৬ সালের ১৪ ই জুন  ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক বাহাদুরাবাদ ইউনিয়নের খুটার চর এলাকার মৃত সাদেক মন্ডলের মেয়ে কবিতা পারভীনের সাথে বিয়ে হয় ।  সাংসারিক জীবনের ৩ মাসের মধ্য নেমে আসে তুমুল কলহ ।  ফলে ঐ বছরেরই  ২৩ সেপ্টেম্বর কবিতা পারভীন গোপনে তালাক দেয় । এবং মিথ্যা মামলা  দেয় । ওয়ারেন্ট বের হয় ।  পুলিশ আমাকে খোঁজাখুজি করে ।  তখন গোপন মামলা এবং তালাকের বিষয়টি জানতে পারি ।

 মীমাংসা হওয়ার জন্য চেষ্টা করি ।  কবিতা পারভীনের অভিভাবকদের সাথে পাররামরামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হেলাল উদ্দিনের সু-সম্পর্ক রয়েছে। মীমাংসার জন্য হেলাল উদ্দিনের কাছে যাই ।  হেলাল উদ্দিন মামলা মীমাংসা ও তালাকনামার কাগজ নিয়ে দেবে বলে ৪ লক্ষ টাকা দাবি করে। 

লংকারচর গ্রামের সিদ্দিকুর রহমান, আব্দুল মজিদ মন্ডল, মোত্তালিব, এনামুল সহ অনেকের উপস্থিতিতে টাকা ৪ লাখ প্রদান করি । সেই টাকা হেলাল উদ্দিন মেয়ে পক্ষকে না দিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করে। পরবর্তীতে ৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ইং তারিখে সাবেক ইউ.পি. সদস্য মো. শামছুল আলমের মধ্যস্থতার মাধ্যমে মোহরানার ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা কবিতা পারভীনকে প্রদান করে তালাকের কাগজ নিয়েছি এবং মীমাংসা হয়েছি। 

এদিকে গ্রামের স্থানীয় মুরুব্বি ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের উপস্থিতিতে শালিস বৈঠক করে হেলাল উদ্দিনের কাছে টাকা ফেরত চাওয়া হয় । টাকা পরিশোধ করবে বলে গড়িমশি করে ।  একপর্যায়ে চড়াও হয়। এখন প্রভাবে খাটিয়ে টাকা না দেওয়ার পায়তারা করছে ।  এবং বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিয়ে আসছে । তাই টাকা ফেরত সহ জীবনের নিরাপত্তার জন্য দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানা ও সেনা ক্যাম্পের কমান্ডিং অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছি । 

অভিযোগটি দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানাধীন সানন্দবাড়ী ফাঁড়ি থানায় তদন্তের জন্য পাঠানো হয় । অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মো. 

খায়রুল ইসলাম বার্তা বিচিত্রা’কে জানান, উক্ত টাকার ব্যাপারে হেলাল উদ্দিনকে অভিহিত করা হলে নানা টালবাহানা করে। বিভিন্ন অজুহাতে কালক্ষেপণ করে। আবার কোন সময় টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে। একপর্যায়ে স্বীকার করলেও তা ফেরত দেবে না বলে জানায়। 

প্রয়োজনে আইনানুযায়ী প্রশাসনকে টাকা দেবে তবুও আমিনুল ইসলামকে টাকা দেবে না বলে সাফ জানিয়ে দেয় অভিযুক্ত মো. হেলাল উদ্দিন।

Leave Your Comments