বয়স জালিয়াতি, ভুয়া সনদ ও নাম পরিবর্তনে চাকরিতে বহাল মাহবুবুর রহমান

Date: 2025-10-09
news-banner

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ: 

সরকারি চাকরির নিয়ম, আইনের ধারা, এমনকি দুদকের অস্তিত্ব। সবকিছুকেই যেন উপহাসে পরিণত করেছেন বিআরটিএ নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান। বয়স জালিয়াতি, নাম পরিবর্তন ও ভুয়া সনদের জাল বুনে তিনি সরকারি চাকরিতে ঢুকে এখন কর্তৃত্বের চূড়ায়, যেন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপরেই তার প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

প্রাপ্ত অভিযোগ ও সরকারি তথ্যসূত্রে দেখা গেছে, এই মাহবুবুর রহমান আসলে “মাহবুবুল আলম”, পিতা মো. আবদুর রাজ্জাক ফকির। ১৯৯০-৯১ শিক্ষাবর্ষে তিনি পিরোজপুরের কলাখালী জিন্নাত আলী মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পরীক্ষা দেন, যেখানে পাসের সাল ১৯৯৩। পরবর্তীতে একাধিকবার ফেল করার পর বয়স জালিয়াতি ও নাম পরিবর্তনের কৌশলে মাদ্রাসা থেকে ফাজিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেন, যা আইনত সম্পূর্ণ অপরাধ।

তার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মতারিখ ২০/০২/১৯৮৩ হলেও এসএসসি সনদে রয়েছে ১০/১১/১৯৭৬ দুই নথির এই বিশাল অমিলই প্রমাণ করে, তিনি পরিকল্পিতভাবে জন্মতারিখ জালিয়াতি করে সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করেছেন। অথচ প্রশাসনের চোখে এই জালিয়াতি যেন অদৃশ্য থেকে গেছে!

২০১২ সালে বিআরটিএ বরিশাল অফিসে যোগদান করে তিনি অদ্ভুত গতিতে সাতক্ষিরা, খাগড়াছড়ি, কেরানীগঞ্জ, পিরোজপুর ও বরিশাল ঘুরে এসে এখন নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক, যেখানে দুর্নীতিই তার পরিচয়ের প্রতীক।

বিশেষ অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, মাহবুবুর রহমানের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় ফেল করার তথ্য পাওয়া গেছে, অথচ তার চাকরির নথিতে সাফল্যের সনদ সংযোজিত! ট্যাবুলেশন শিটে এই অমিল প্রমাণ করে, তিনি ভুয়া শিক্ষাগত যোগ্যতা ও বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি পদ দখল করেছেন। পরে দাখিল ও পলিটেকনিক সনদ সংগ্রহ করে “যোগ্যতার মুখোশে” নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন।

অভিযোগ শুধু সনদজাল নয়, তার বিরুদ্ধে রয়েছে ঘুষ, প্রতারণা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের ভয়াবহ অভিযোগ। যাত্রাবাড়ীতে একটি ফ্ল্যাট, বসুন্ধরায় সহকর্মীর সঙ্গে যৌথভাবে নির্মাণাধীন পাঁচতলা বাড়ি, এবং পিরোজপুর জেলার দেবকাঠি, জয়পুর, বাবলা কচুবুনিয়া, চলপুখুরিয়া, ডাকাতিয়া, শ্রীরামকাঠি, জয়পুর ও কাঁঠালতলা এলাকাজুড়ে বিপুল অস্থাবর ও স্থাবর সম্পত্তির মালিক এখন এই ভুয়া সনদধারী কর্মকর্তা।

দুদককে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় সাংবাদিকদের বলেছেন, ইতিপূর্বে বহু সাংবাদিক ফোন করেছে, তাতে আমার কিছুই হয়নি, আপনারাও আমার কিছুই করতে পারবেন না।

Leave Your Comments