আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরোঃ
বরগুনা জেলার স্বাধীনতাপ্রেমী মানুষের এক গৌরবময় দিন ২ ডিসেম্বর। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের পরাজিত করে পাথরঘাটা উপজেলা সম্পূর্ণ মুক্ত হয়। সেই থেকেই প্রতিবছর দিনটি ‘পাথরঘাটা হানাদারমুক্ত দিবস’ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাথরঘাটা উপজেলা ছিল ৯ নম্বর সেক্টরের আওতাধীন বুকাবুনিয়া সাব-সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত। স্বাধীনতার চূড়ান্ত লড়াইয়ের অংশ হিসেবে ১ ডিসেম্বর রাতেই মুক্তিযোদ্ধারা পাথরঘাটা আক্রমণের পরিকল্পনা নেন।
রাতের শেষ প্রহরে মুক্তিযোদ্ধারা তিনটি দলে বিভক্ত হয়ে অপারেশন পরিচালনা শুরু করেন। প্রথমে বিষখালী নদীর ওপার থেকে প্রচণ্ড গুলিবর্ষণের মাধ্যমে আক্রমণ শুরু হয়। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই শহরের তিন দিক থেকে একযোগে ফায়ারিং করলে পাকিস্তানি সেনা এবং রাজাকার–আলবদর বাহিনী পালিয়ে যায়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিনের বর্ণনা অনুযায়ী, মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত ও দুঃসাহসিক অভিযানের ফলেই ২ ডিসেম্বর পাথরঘাটা শত্রুমুক্ত হয় এবং স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়তে থাকে।
যুদ্ধাপরাধীদের গণআদালতের বিচারঃ
শহর শত্রুমুক্ত হওয়ার পর পালানোর সময় বিষখালী নদীর পারে কয়েকজন রাজাকার, আলবদর, শান্তি কমিটির সদস্যসহ হানাদার বাহিনীর সহযোগীদের আটক করা হয়। পরে তাদের পাথরঘাটা থানার সামনে উন্মুক্ত মাঠে গণআদালতে হাজির করা হয়। নিরীহ মানুষের ওপর নির্যাতন, গণহত্যা, লুটতরাজ ও দেশদ্রোহী কর্মকাণ্ডের দায়ে গণআদালতের রায়ে হাতেম রশেদী, সেকান্দার ডাক্তার ও হাসেম হাজীসহ কয়েকজনকে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
গর্ব ও স্মৃতির দিনঃ
মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগ, সাধারণ মানুষের সহযোগিতা এবং সংগঠিত প্রতিরোধের ফলেই সেই দিনের সূর্যোদয়ের সাথে পাথরঘাটায় উড়েছিল বিজয়ের পতাকা।
এখনো বিভিন্ন সংগঠন ও স্থানীয় প্রশাসন দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে থাকে।