ফরহাদ হোসেন মুরাদ:
সন্তানের উন্নত ভবিষ্যতের আশায় সম্বল ভেঙে ৭ লাখ টাকা দালালদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বাবা। গত ২২ এপ্রিল ছেলেকে বিদায় জানাতে দাঁড়িয়েছিলেন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে। কিন্তু ইমিগ্রেশন ডেস্কে গিয়েই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে তাদের। জানা যায়, পাসপোর্টে লাগানো ইতালির ভিসাটি সম্পূর্ণ জাল। এভাবেই ধূলিসাৎ হয়ে যায় বাবা বিল্লাল মিয়া ও ছেলে সাইফুল মিয়ার বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন।
চাঞ্চল্যকর এই ভিসা জালিয়াতি ও প্রতারণা মামলার অন্যতম আসামি মাহবুবুর রহমানকে (৩০) অবশেষে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গত মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর ২০২৫) রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে সিআইডি ঢাকা-মেট্রো পূর্ব ইউনিট।
মামলার এজাহার ও সিআইডি সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের বাসিন্দা বিল্লাল মিয়ার ছেলে মো. সাইফুল মিয়াকে (২১) ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখায় একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র। ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে ইতালিতে পাঠানোর চুক্তি হয়। বিশ্বাস অর্জনের জন্য চক্রটি শর্ত দেয়, অগ্রিম কিছু টাকা দিতে হবে এবং বাকি টাকা ইতালি পৌঁছানোর পর পরিশোধ করতে হবে। সেই অনুযায়ী, গত ৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে ভুক্তভোগীরা নগদ ৫ লাখ টাকা এবং ২ হাজার ১০০ ইউরো (সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকা) মাহবুবুর রহমান ও তার সহযোগীদের হাতে তুলে দেন। বিনিময়ে চক্রটি সাইফুলের পাসপোর্টে একটি ইতালির ভিসা এবং বিমান টিকিট বুঝিয়ে দেয়।
গত ২২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে সেই ভিসা ও টিকিট নিয়ে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বিমানবন্দরে যান সাইফুল। কিন্তু ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান, ভিসাটি জাল। বিমানবন্দর থেকে ফিরে ভুক্তভোগী বাবা ও ছেলে আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে কোনোভাবে যোগাযোগ করে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে শুরু করে প্রতারকরা।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাবা বিল্লাল মিয়া বাদী হয়ে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় মানবপাচার ও প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা (মামলা নং- ০৮, তারিখ- ০২/০৭/২০২৫) দায়ের করেন।
সিআইডি জানায়, মামলার তদন্তভার গ্রহণের পর তারা জোরালো অভিযান শুরু করে। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর চক্রের মূল হোতা জোসনা খাতুন এবং তার সহযোগী মিলন মিয়াকে ঢাকা ও ফরিদপুর থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এবার চক্রের আরেক সক্রিয় সদস্য মাহবুবুর রহমানকে গ্রেফতার করা হলো। তাকে ইতিমধ্যেই বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
সিআইডি ঢাকা-মেট্রো পূর্ব ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিদেশগামীদের এ ধরনের চটকদার প্রলোভনে কান না দিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি।