ঢাকা, ২০২৫ – দেশে বিনোদন অঙ্গনে সম্প্রতি এক নতুন দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে—ইউটিউবে তৈরি করা ভুয়া সাক্ষাৎকার। জনপ্রিয় তারকা বা পরিচিত শিল্পীদের নাম ব্যবহার করে কিছু কনটেন্ট ক্রিয়েটর বিভ্রান্তিকর ভিডিও বানাচ্ছেন, যা দর্শকদের ভুল তথ্য দেয় এবং শিল্পীদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
এই ধরনের ভিডিওতে তারকার পুরোনো সাক্ষাৎকার বা ভিডিও অংশ কেটে দিয়ে ‘চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি’, ‘তালাকের আসল কারণ’ ইত্যাদি শিরোনাম দেওয়া হয়। বাস্তবিক কোনো সাক্ষাৎকার নেই, সাংবাদিকও উপস্থিত থাকেন না। ফলে দর্শকরা বিভ্রান্ত হন, আর কনটেন্ট নির্মাতারা ভিউয়ের মাধ্যমে অর্থ আয় করেন।
শিল্পীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের অনুমতি ছাড়া ভিডিও তৈরি ও প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে তাদের ব্যক্তিগত জীবন ও সম্মানহানি ঘটছে। অভিনেতা ওমর সানী, বিদ্যা সিনহা মিম, শাকিব খান, আজমেরী হক বাঁধন সহ অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শেলী মাননা জানিয়েছেন, প্রয়াত চিত্রনায়ক মান্নার নামে তৈরি ভুয়া ভিডিওও বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল।
বিনোদন সাংবাদিকরা বলছেন, ইউটিউবারদের এই কর্মকাণ্ড মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার উপর আঘাত হেনেছে। পেশাদার সাংবাদিকতার যাচাই-বাছাই, তথ্য নিশ্চিতকরণ ও সম্পাদনার নীতি এখানে মানা হয় না। ভিউনির্ভর অর্থনৈতিক কাঠামোর কারণে দ্রুত ভিউ বাড়ানোর জন্য সত্য বা নৈতিকতার কোনো খেয়াল রাখা হয় না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দর্শক সচেতনতা, সাংবাদিক দায়িত্ব, শিল্পী সংগঠনের সচেতন প্রচারণা ও ইউটিউব প্ল্যাটফর্মের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। না হলে সত্যিকারের সাংবাদিকতা হারাতে পারে, আর তারকারা প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ভুয়া সাক্ষাৎকারের শিকার হবেন।