স্কুল মাঠে সড়ক উন্নয়ন কাজের কাঁচামাল; ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা, প্রশাসনের নীরবতায় স্থানীয়দের ক্ষোভ

Date: 2025-12-05
news-banner

নরসিংদী প্রতিনিধি:

নরসিংদীর শিবপুরে গরবাড়ি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও গরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সড়ক উন্নয়ন কাজের কাঁচামাল রাখায় ব্যাহত হচ্ছে শিশু-কিশোরদের বার্ষিক পরীক্ষা। ধুলাবালি, বিটুমিনের বিষাক্ত কালো ধোঁয়া এবং মিক্সার মেশিনের তীব্র শব্দে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েছে পরীক্ষা দিতে আসা শিক্ষর্থীরা। ফলে পরীক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। আর এ অবস্থায় অভিযোগের তীর বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। 

স্থানীয় সূত্র জানায়, এলজিইডি এর বাস্তবায়নে গরবাড়ি–চৌঘরিয়া দুই কিলোমিটার সড়কের উন্নয়ন কাজ পায় টিটু মৃধা নামে স্থানীয় একজন বিএনপি নেতার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কাজ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দলীয় প্রভাবে এ প্রকল্পের কাঁচামাল সুবিধার জন্য বিদ্যালয়ের খেলার মাঠেই দীর্ঘদিন ধরে স্তূপ করে রাখা হয়েছে পাথর, বালু ও বিটুমিনের ড্রাম। শুধু তাই নয়, স্কুল চলাকালীন সময়েই চুলায় বিটুমিন গলানো হয়। এতে কালো ধোঁয়া, তাপ ও দুর্গন্ধে পরীক্ষা দিতে বসা শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালাপোড়া এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছে।

অভিভাবক জানান, পাথর ভাঙার মেশিন, মিক্সার ও ট্রাক চলাচলের শব্দে নিয়মিত পাঠদান তো বটেই, চলমান বার্ষিক পরীক্ষাও  ব্যাহত হচ্ছে। মাঠে বিভিন্ন কাঁচামালের স্তূপ থাকায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ঝুকিতো রয়েছেই।

স্থানীয়দের অভিযোগ, “সড়ক উন্নয়নের কাজে বিদ্যালয়ের মাঠ ব্যবহার একেবারেই অযৌক্তিক ও অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত।” তারা দ্রুত মাঠ পরিষ্কার করে নিরাপদ ও শান্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানান। 

গরবাড়ী উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালযের প্রধান শিক্ষক বিষয়টি সম্পর্কে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করেন। পরে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে আনেন। উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েও এ ব্যাপারে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে নীরব রয়েছেন  বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। 

পরিবেশদূষণ, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরীক্ষা ব্যাহত হওয়া—এসব গুরুতর বিষয়েও প্রশাসনের নীরব ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

গরবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ফারুক মিয়া বলেন, স্কুল মাঠে বিভিন্ন সরঞ্জামাদি রাখায় স্কুলের ছেলে মেয়েদের চলাচলে  সমস্যাসহ  একাধিক সংকট তৈরি হয়েছে। একদিকে তারা খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, পাশাপাশি দূষণ হচ্ছে পরিবেশ । এ ব্যাপারে উদ্ধর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে কোন অভিযোগ করেছেন কিনা সেটা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মূলত মাঠটি আমাদের নয়, হাই স্কুলের তাই কোন অভিযোগ করিনি। 

গরবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো۔ আলতাফ হোসেন বলেন, স্কুল মাঠে বিভিন্ন সরঞ্জামাদি রাখার সময় আমরা বাঁধা দিয়েছিলাম। সে সময়  তারা আমাদেরকে বলেছিল দুই একদিনের জন্য সেগুলো রাখছেন।পরে সরিয়ে নিবেন। কিন্তু এতদিনেও সরিয়ে না নেওয়ায় বিষয়টি আমি উপজেলা মাধ্যমিক কর্মকর্তা স্যারকে জানাই। পরে ওনি তা ইউএনও সাহেবকে অবগত করেছেন।। 

দীর্ঘদিন ধরে স্কুল মাঠে কাঁচামাল ফেলে রাখায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে স্কুল কর্তৃপক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নিয়েছেন কিনা বা এ ব্যাপারে কোন চিন্তাভাবনা আছে কিনা সেটা জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন আসলে বুঝতেই পারছেন যারা কাজ করছেন তারা কালামিয়া স্যারের এবং তোফাজ্জল স্যারের খুব কাছের মানুষ তাই তাদেরকে কিছু বলিনি।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক টিটু মৃধা বলেন, কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই স্কুল মাঠে আমাদের বিভিন্ন জিনিসপত্র রেখেছি। তাছাড়া  যেহেতু সরকারি কাজ আর সেজন্যই স্কুল মাঠটা ব্যবহার করছি। আর সরকারব কাজে স্কুল মাঠ ব্যবহার করাতে তো কোন বাধা নেই।  তাছাড়া চুলা জ্বালানো হয় হাই স্কুলের একটি পরিত্যক্ত ভবনে। 

এলজিইডি বিভাগের শিবপুর উপজেলা প্রকৌশলী খোন্দকার গোলাম শওকত বলেন, স্কুল মাঠ থেকে মালপত্র অনেক আগেই তো সরিয়ে নেওয়ার কথা। তবে কেন এখনো সেগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়নি সে বিষয়টি বলতে পারব না। এ সময় উন্নয়ন কাজের বিভিন্ন তথ্য তার কাছে চাওয়া হলে তিনি বাইরে আছেন তাই আর কোন কথা বলতে পারবেন না বলে জানান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা۔ ফারজানা ইয়াসমিনের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি অবগত আছেন বলে জানান।  বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছেন কিনা বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি প্রসঙ্গ পাল্টে প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ পত্রের কপি তার মোবাইলে দেওয়ার জন্য বলেন। 

Leave Your Comments