সন্ত্রাসবাদী দেশের তালিকা থেকে সিরিয়ার নাম সরিয়ে নিয়েছে কানাডা। শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেয়। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পর সিরিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক অবস্থানের একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক মহল।
গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স কানাডার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকার দেশটির স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠনের পথে যে কার্যক্রম চালাচ্ছে, তা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যও একই ধরনের অবস্থান গ্রহণ করায় কানাডার এ সিদ্ধান্ত তাদের মিত্রদের নীতির সাথে সামঞ্জস্য রেখেই নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়—বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে মিলিত হয়ে কানাডা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং সন্ত্রাসবাদ দমনে কাজ চালিয়ে যাবে। এই প্রক্রিয়ায় সিরিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের সহযোগিতা আন্তর্জাতিকভাবে একটি ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ বলেন,
“সিরিয়ার সরকারের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক রূপান্তরের পদক্ষেপকে কানাডা স্বাগত জানায়। আমরা সিরিয়ার জনগণের পাশে আছি—অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার লড়াইয়ে তাদের সমর্থন দিয়ে যাব।”
২০১২ সালে বাশার আল-আসাদ সরকারের সময় সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদে সহায়তাকারী দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল কানাডা। তবে দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ, মানবিক সংকট এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক আলোচনার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছে পশ্চিমা শক্তিগুলো।
এর মাত্র একদিন আগে সিরিয়ায় সফর করে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল। তারা দেশটির রাজনীতি, মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং পুনর্গঠন প্রক্রিয়া সরেজমিন পর্যালোচনা করে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, সিরিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক অবস্থানের পরিবর্তন ভবিষ্যতে দেশটির রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।