আব্দুল্লাহ
আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):
ভালোবাসার টানে এবং ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে
পূজা সুতার (২৬) নামের এক কলেজছাত্রী হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেছেন
এবং আহমেদ সাবিত রাফি (২৫) নামের এক যুবকের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। পূর্বের
নাম “পূজা সুতার” পরিবর্তন করে ইসলামী নাম “মুসকান আহেমেদ দু’আ” রেখেছেন। পিরোজপুরের
কাউখালী উপজেলার আসপদ্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।
বিয়ের পর বিষয়টি গোপন রেখে প্রায় তিন মাস নিজ
নিজ পরিবারেই অবস্থান করছিলেন তারা। এক সময় কিছুটা আঁচ করতে পেরে মেয়ের মা মেয়েকে অন্যত্র
বিয়ে দেওয়ার ‘চিন্তা চেষ্টা’ করলে গত ২০ নভেম্বর মুসকান ওরফে পূজা বাসা থেকে বের হয়ে
স্বামী সাবিতের কাছে চলে যায়। স্থানীয়ভাবে তাদের বিয়ের খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক
আলোচনা শুরু হয়। তবে ঘটনার পর থেকে মেয়ের পরিবারের পক্ষ হতে তাদের প্রতি বিভিন্ন ধরনের
চাপ তৈরি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পিরোজপুর
জেলার নাজিরপুর থানাধীন রঘুনাথপুরের বাসিন্দা অরবিন্দু সুতার ও সবিতা রাণী মন্ডলের
মেয়ে পূজা সুতার। অপর দিকে একই জেলার কাউখালী থানাধীন আসপদ্দি গ্রামের মো. ইউনুছ রেজা
ও শনো রওশনা দম্পতির ছেলে আহমেদ সাবিত রাফি। পড়া-লেখার সূত্র ধরে একে অপরের সাথে পরিচয়
হলেও ধীরে ধীরে পূজা ও রাফির সম্পর্ক প্রেমের দিকে গড়ায়। এ সময় পূজা ইসলাম ধর্মের প্রতিও
আকৃষ্ট হয়ে ওঠে। এক সময় তারা দীর্ঘ দিনের প্রেমের সুন্দর পরিণতির জন্য বিয়ের সিদ্ধান্ত
গ্রহন করে। পরে গত ২৮ আগষ্ট-২০২৫ খ্রি. তারিখ, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা,
২০০৯ এর বিধি ২৮(১) (ক) অনুযায়ী এবং ইসলামী শরীয়াহ্ মোতাবেক তারা নিজেদের বিয়ের কার্যক্রম
সম্পন্ন করে। “নিকাহনামা” অনুযায়ী তাদের বিয়ে পড়ান হাফেজ মো. মহসীন। এর আগে ঢাকায় বিজ্ঞ
প্রথম শ্রেণির মেজিষ্ট্রেট আদালত/ নোটারী পাবলিকের কার্যালয়ে হলফনামার মাধ্যমে পূজা
সুতার স্বেচ্ছায় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহন করে
পূজা সূতার এর নতুন নাম রাখা হয় মুসকান আহমেদ রাফি।
হলফনামায় মুসকান ওরফে পূজা উল্লেখ করেন, “হিন্দু
ধর্মে, হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহন করে প্রাপ্ত বয়ষ্ক হওয়ার পর হইতেই আমার জন্ম সূত্রে
হিন্দু ধর্মীয় রীতিনীতি ও আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আমি ইসলাম ধর্মীয় রীতিনীতি এবং
ইসলাম ধর্মের পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর মর্মবাণী অনুভব ও অনুধাবন করতে শুরু করি এবং
উহারই ধারাবাহিকতায় ইসলাম ধর্মের পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর নির্দেশিত পথই একমাত্র ইহকাল
ও পরকালের মুক্তির পথ ধরিয়া আমার অন্তঃকরণে চরম বিশ্বাস জম্মিতে থাকে। বাকী জীন্দেগী
ইসলাম ধর্মের পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহ্র আলোকে পরিচালনা করার চুড়ান্ত স্বাধীন ঘোষণায়
স্থানীয় ইমাম সাহেবের মাধ্যমে ইসলাম ধর্মের পবিত্র কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর
রাসুলুল্লাহ’ মুখে উচ্চারণে পড়িয়া এবং উহা অন্তকরণে বিশ্বাস করিয়া আমার জন্ম সূত্রে
হিন্দু ধর্ম চিরতরে ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহন করি। অত্র হলফনামা সম্পাদনের মাধ্যমে
আমি হলফ ঘোষণাকারী স্বীকার ও ঘোষণা করিতেছি যে, আমি বর্তমানে মুসলমান ও পবিত্র ইসলাম
ধর্মের অনুসারী এবং আমার পূর্বের নাম ‘পূজা সুতার’ বদল করে বর্তমান মুসলমান নাম ‘মুসকান
আহমেদ দু’আ’ হিসেবে সর্বক্ষেত্রে সর্ব মহলে এবং সর্ব আইন-আদালতে পরিচিতি লাভ করিব।
আমার স্বাধীন চিত্তে, সরল মনে এবং অন্যের বিনা চাপে স্বীয় স্বাধীন সম্মতিতে অত্র হলফনামা
সম্পাদিত হইল বলিয়া আমার দ্বারা স্বীকৃত হইল।”
এক বার্তায় মুসকান আহমেদ দু’আ বার্তা বিচিত্রাকে
জানান, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী একজন প্রাপ্ত বয়ষ্ক নাগরিক হিসেবে আমার ব্যক্তিগত
যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহনের অধিকার আমার রয়েছে। সেই অধিকার বলে আমি স্ব-ইচ্ছায়
ও স্বজ্ঞাণে নিজের বিবাহের সিদ্ধান্ত নিজেই নিয়েছি। এই সিদ্ধান্ত গ্রহনে আমাকে কেউ
জোর পূর্বক বাধ্য করেনি। আলহামদুলিল্লাহ, মহান আল্লাহর রহমতে আমরা দুজনেই ভালো আছি।
কিন্তু আমরা পারিবারিক ও পারিপার্শ্বিক বিভিন্ন চাপের কারণে হেনস্থার শিকার হচ্ছি।
এমনকি আমাদের জীবন নাশের আশংকায় রয়েছি। একইসাথে মুসকান তার স্বজনদের প্রতি আহবান জানিয়ে
বলেন, “আমরা চাই না, আপনাদের কোনো কার্যক্রম আমাদের জীবনে কোনো বাঁধার সৃষ্টি করুক।”