‘গণহারে বদলি’ কৌশলে থেমেছে প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন

Date: 2025-12-07
news-banner

তিন দফা দাবিতে টানা আন্দোলনে নেমেছিলেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। কর্মবিরতি, বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন থেকে শুরু করে স্কুলে তালা ঝুলিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ পর্যন্ত কর্মসূচি পালন করেও তাদের দাবি আদায় হয়নি। আশ্বাস, চাকরিবিধি ও ফৌজদারি আইনে শাস্তির হুঁশিয়ারি—কোনোটিতেই শিক্ষকরা ক্লাসে ফেরেননি। শেষ পর্যন্ত গণহারে বদলি ও শোকজের কৌশলে আন্দোলন থামাতে সক্ষম হয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।


গত ১, ২ ও ৩ ডিসেম্বর দেশের অনেক জেলার সব বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের গণশোকজ করা হয়। এরপর ৪ ডিসেম্বর আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা একজন প্রধান শিক্ষকসহ মোট ৪৩ জন শিক্ষককে রীতি ভেঙে ভিন্ন জেলায় বদলি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। এর পরই আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা দেয় শিক্ষক সংগঠনগুলো।


এ আন্দোলন পরিচালনা করে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ, যাদের সাথে একাত্ম ছিল বাংলাদেশ প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ। সংগঠনের নেতারা জানান, যেসব সাধারণ শিক্ষককে বিনা কারণে শোকজ বা প্রশাসনিক বদলি করা হয়েছে, তাদের বদলি আদেশ প্রত্যাহারের জন্য ডিপিই’র ডিজির কাছে আবেদন করা হবে।

সংগঠনের অন্যতম আহ্বায়ক মোহাম্মদ শামছুদ্দিন মাসুদ জাগো নিউজকে বলেন,


“নেতৃত্বদানকারী শিক্ষকরা ভয় পাচ্ছেন না, তবে সাধারণ অনেক শিক্ষক বিনা কারণে বদলি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। আমরা চাই, এসব বদলি ও শোকজ আদেশ দ্রুত প্রত্যাহার করা হোক।”

রোববার থেকে আবার বার্ষিক পরীক্ষা

গণবদলি ও শোকজের মুখে স্থগিত হয়েছে শিক্ষকদের ‘কমপ্লিট শাটডাউন’। সিদ্ধান্ত হয়েছে, রোববার (৭ ডিসেম্বর) থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা যথারীতি চলবে। আন্দোলনকারী শিক্ষকরাও এতে অংশ নেবেন।


শিক্ষক নেতা শামছুদ্দিন মাসুদ বলেন,
“শিক্ষার্থীদের স্বার্থে এবং অভিভাবকদের অনুরোধে আমরা পরীক্ষার কাজে ফিরছি। তবে হয়রানির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”


অনেক বিদ্যালয়ে এখনো বিশৃঙ্খলা

দেশের বিভিন্ন এলাকায় দুই থেকে তিনটি বিষয়ের পরীক্ষা হলেও অধিকাংশ বিদ্যালয়ে পরীক্ষা শুরু হয়নি। কারণ সাড়ে ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৪২ হাজার বিদ্যালয়েই প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বে আছেন সহকারী শিক্ষকরা—যারা আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন।


কিছু বিদ্যালয় উপজেলা প্রশাসন ও অভিভাবকদের সহায়তায় পরীক্ষা নিলেও অনেক জায়গায় প্রশ্নপত্র এক বিদ্যালয় থেকে অন্য বিদ্যালয়ে চলে যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, প্রতিটি বিদ্যালয়ের আলাদা প্রশ্নপত্র প্রণয়নের নিয়ম আছে। যেখানে উপজেলা পর্যায়ের প্রশ্নপত্র ব্যবহার হয়েছে, সেখানে একই প্রশ্নে পরীক্ষা না নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

Leave Your Comments