আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরোঃ
আজ ৮ ডিসেম্বর, বরিশাল মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে নয় মাস পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দখলমুক্ত হয় বরিশাল। শহরজুড়ে ধ্বনিত হয়েছিল হাজারো মানুষের কণ্ঠে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান।
২৫ মার্চ ঢাকায় অপারেশন সার্চলাইট শুরুর খবরের পরদিনই মুক্তিযোদ্ধারা বরিশাল পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগার ভেঙে অস্ত্র সংগ্রহ করে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। গঠিত হয় দক্ষিণাঞ্চলীয় মুক্তিযুদ্ধের প্রথম সচিবালয়। এখান থেকেই অস্ত্র, অর্থ, প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অপারেশন পরিচালনা করা হতো।
এপ্রিলেই বিমান, স্থল ও নৌপথে বরিশালে প্রথম বড় হামলা চালায় পাক বাহিনী। গৌরনদী ও শায়েস্তাবাদে মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ প্রতিরোধের মুখোমুখি হয় তারা। চরবাড়িয়া এলাকায় নির্বিচারে গণহত্যা চালিয়ে শহর দখলে নেয় পাকিস্তানি বাহিনী। জিলা স্কুল, অশ্বিনী কুমার হল ও ওয়াপদা অফিস পরিণত হয় নির্যাতন কেন্দ্রে। অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে সাগরদী খালে ফেলে দেওয়া হতো।
শান্তি কমিটি গঠন করে পাক সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করে রাজাকার-আলবদর বাহিনী। তবে মুক্তিযোদ্ধারা থানাগুলোতে আক্রমণ ও প্রতিরোধ জোরদার করতে থাকলে শত্রু বাহিনী ওয়াপদায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে।
৪ ডিসেম্বর যশোর পতনের পর পালাতে শুরু করে পাক বাহিনী। ৭ ডিসেম্বর গভীর রাতে তারা নৌপথে বরিশাল ছেড়ে পালায়। পরদিন ৮ ডিসেম্বর সকাল থেকেই শহরজুড়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ছড়িয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধারা দলে দলে শহরে প্রবেশ করে কোতয়ালী থানা ও সরকারি স্থাপনাগুলো দখল নেন। উড়তে থাকে স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজ পতাকা।
পরে ১৭ থেকে ২২ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে আত্মসমর্পণ করে অবশিষ্ট পাকিস্তানি সেনা ও সহযোগীরা। অবসান হয় বরিশালের নয় মাসের নৃশংস দখলদারিত্বের।
স্বাধীনতার লড়াইয়ে প্রাণ দিয়েছেন অসংখ্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ। বরিশালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস আজও প্রজন্মকে দেশপ্রেমের চেতনায় উজ্জ্বীবিত করে।