আজ ঝালকাঠি ও নলছিটি হানাদারমুক্ত দিবস: ১৯৭১ সালের বিজয় ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি

Date: 2025-12-08
news-banner

আবু জাফর বিশ্বাস,  বরিশাল ব্যুরোঃ  

আজ ৮ ডিসেম্বর ঝালকাঠি হানাদারমুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল আক্রমণের মুখে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও তাদের দোসররা ঝালকাঠি শহর ছেড়ে পালিয়ে যায়। বিজয়ীর বেশে মুক্তিযোদ্ধারা শহরে প্রবেশ করলে পুরো জেলায় আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়ে স্বাধীনতাকামী মানুষ। পাশাপাশি বিভিন্ন গণকবর ও বধ্যভূমিতে স্বজনদের লাশ খুঁজতে শুরু করেন স্থানীয়রা।

তথ্য অনুসারে, ১৯৭১ সালের ২৭ এপ্রিল ভারী কামান ও মর্টারশেল নিক্ষেপ করে পাক হানাদার বাহিনী ঝালকাঠি দখল করে। এর পর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজাকার, আলবদর ও আল শামসের সহায়তায় পুরো জেলায় হত্যা, ধর্ষণ, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগসহ বর্বর নির্যাতন চালায় তারা।

মুক্তিযোদ্ধারা জানান, প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষকে ধরে এনে পালবাড়ি টর্চার সেলে নির্যাতন করা হতো। পরে সুগন্ধা নদীর খেয়াঘাট এলাকায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করা হতো। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য গণকবর তৈরি করে লাশ মাটি চাপা দিত হানাদার বাহিনী।

মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবল প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়ে ৭ ডিসেম্বর রাতেই পাকবাহিনী শহরে কারফিউ জারি করে পালিয়ে যায়। পরদিন ৮ ডিসেম্বর ঝালকাঠিকে আনুষ্ঠানিকভাবে হানাদারমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এদিন মুক্তিযোদ্ধাদের অগ্রযাত্রা দেখে রাজাকাররাও আত্মসমর্পণ শুরু করে। ঝালকাঠি থানা অবরোধ করলে সেখানে থাকা পুলিশ সদস্যরাও মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে অস্ত্র সমর্পণ করেন।

অতঃপর নলছিটিও হয় হানাদারমুক্ত

একই দিনে মুক্ত হয় ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা। তৎকালীন নলছিটি থানার পুলিশ কর্মকর্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা সেকান্দার আলী মিয়ারের কাছে অস্ত্র জমা দেন।

রনাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক উপজেলা কমান্ডার কাজী মাহবুবুল আলম লাটু জানান, ১৩ নভেম্বর চাচৈর গ্রামে প্রচণ্ড সম্মুখযুদ্ধ হয়। মুক্তিযোদ্ধা আউয়াল শহীদ হলেও বহু পাকসেনা নিহত হয়।

চাচৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের সাব-ক্যাম্প। পাক বাহিনীর আক্রমণের তথ্য পেয়ে ক্যাপ্টেন শাহজাহান ওমর ১২০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে ১৩ নভেম্বর সেখানে যোগ দেন। সুলতান হোসেন মাস্টারের নেতৃত্বে আরও ১৫০ মুক্তিযোদ্ধা অভিযানে অংশ নেন। সকাল ১০টায় পাক সেনারা গ্রামে ঢুকলে মুক্তিযোদ্ধারা উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম দিক থেকে হামলা চালান। দক্ষিণ দিক খোলা পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে ওঁৎ পেতে থাকা মুক্তিযোদ্ধাদের ব্রাশফায়ারে ঘটনাস্থলেই নিহত হয় ১৮ পাকসেনা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা যুদ্ধে পাক কমান্ডারসহ প্রায় ৬০ জন নিহত হয় এবং ৬ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন।

পরে ১৫ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা নলছিটি থানা আক্রমণ করেন। ৭ ডিসেম্বর রাতে চারদিক থেকে অবরুদ্ধ হয়ে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। ৮ ডিসেম্বর থানার পুলিশ কর্মকর্তারা অস্ত্র জমা দিলে নলছিটিও আনুষ্ঠানিকভাবে হানাদারমুক্ত হয়।

Leave Your Comments