স্বর্ণময় সুর , জবি প্রতিনিধি :
সম্পূরক বৃত্তি নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঘুম যেন কাটছেই না। বহুদিন অতিবাহিত হলেও সম্পূরক বৃত্তির জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশিত হয়নি। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সম্পূরক বৃত্তির অর্থ আদায়ের দাবিতে আজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের কর্মসূচি লক্ষ্য করা যায়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে আজ উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। তারা দাবি করেন—
১. ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বিশেষ বৃত্তির চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে।
২. জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ পৌঁছে দিতে হবে।
৩. ডিসেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় ধাপের কাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।
৪. কোনো প্রকার বিড়ম্বনা ছাড়া যথাসময়ে জকসু নির্বাচন বাস্তবায়ন করতে হবে।
এছাড়াও তারা জকসু নির্বাচনের বারবার তারিখ পরিবর্তন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিন ছাত্রদল ও ছাত্র অধিকার পরিষদ সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের প্রার্থীরাও সম্পূরক বৃত্তিসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী এ কে এম রাকিব বলেন, “সম্পূরক বৃত্তি আমাদের প্রাথমিক চাহিদা। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০–৭০% আবাসন সুবিধা থাকলেও আমাদের নেই। তাই আবাসন ভাতা আমাদের অধিকার। প্রশাসন যদি মনে করে জকসু দিয়ে আমাদের ব্যস্ত রেখে সম্পূরক বৃত্তিকে এড়িয়ে যাবে—তা বড় ভুল। প্রশাসন যদি আমাদের সম্পূরক বৃত্তি এবং জকসুর মধ্যে একটি বেছে নিতে বলে, আমরা সম্পূরক বৃত্তিকেই বেছে নেব।”
তিনি আরও বলেন, “আজ প্রাথমিকভাবে আমরা অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছি। শুনেছি আজ সম্পূরক বৃত্তি বিষয়ে প্রশাসনের মিটিং আছে। যদি আজকের মধ্যে কোনো ফলপ্রসূ সিদ্ধান্ত না আসে, তবে কাল থেকে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।”
সম্পূরক বৃত্তি নিয়ে প্রশাসনের খামখেয়ালি মনোভাব ও দায়িত্বহীন আচরণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা ও অসন্তোষের জন্ম দিয়েছে।