চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানার বাহির সিগন্যাল এলাকার ফকির কলোনিতে পাঁচ বছরের শিশু নুসরাত জাহান তরীকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা দুই বছরের বেশি সময় রহস্যের ঘেরাটোপে থাকলেও অবশেষে পিবিআই রহস্য উদ্ঘাটন করেছে। সন্দেহভাজন আসামি রাসেল হোসেন শেখ (৩২) পিবিআই-এর হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেন।
ঘটনা ঘটে ২৭ জুন ২০২১ সালে। সেদিন সকালে শিশুর মা আতুশি মারমা (নওমুসলিম ফাতেমা বেগম) কর্মস্থলে গেলে শিশুটি ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় ছিল এবং প্রতিবেশী রুমি বেগম দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। সকাল ৯টার দিকে শিশুটিকে খুঁজে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে বেলা ১২টার দিকে বাসার শয়নকক্ষের খাটের নিচে শিশুর মৃতদেহ মুখে কাপড় গোঁজা অবস্থায় পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তে তার লজ্জাস্থানে রক্তক্ষরণ, গলায় আঙুলের কালো দাগ ও হাতের নখ ভাঙার চিহ্ন পাওয়া যায়।
শিশুর মা বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে রহস্য উদ্ঘাটন করতে ব্যর্থ থানা পুলিশের পর পুলিশের হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে মামলাটির তদন্তভার পিবিআই-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পিবিআই প্রধান, অ্যাডিশনাল আইজিপি মোস্তফা কামাল এবং চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট ইনচার্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের তত্ত্বাবধানে তদন্তভার গ্রহণ করেন পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মর্জিনা আক্তার। দীর্ঘদিন তদন্তে ঘটনাস্থলের আশেপাশের প্রায় ৪০–৫০ পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ, পারিপার্শ্বিক সাক্ষী, ডিএনএ স্যাম্পল এবং জব্দকৃত আলামত বিশ্লেষণ করা হয়।
পরিশেষে, রাসেল হোসেন শেখকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করে ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে পিবিআই হেফাজতে নিয়ে গভীর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে এবং আদালতে দোষ স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করে।
পিবিআই জানায়, আসামী ঘটনার দিন সকালে শিশুর একাকিত্ব ও আশেপাশের অগোছালো পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে ভিকটিমকে ধর্ষণ ও হত্যা করে। পরে আলামত নষ্ট করে মৃতদেহ খাটের নিচে লুকিয়ে দিয়ে স্বাভাবিক আচরণে চলে যায়।
তদন্ত কর্মকর্তা: পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মর্জিনা আক্তার, পিবিআই, চট্টগ্রাম মেট্রো (মোবাইল: ০১৮১৮-৫৪০১৭২)
তদন্ত তদারকি কর্মকর্তা: মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, পুলিশ সুপার ও পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট ইনচার্জ (মোবাইল: ০১৩২০-০২৯৫২৫)