চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি নিষিদ্ধ ৪২০০ কেজি ঘনচিনি জব্দ

Date: 2025-12-11
news-banner

চট্টগ্রাম বন্দরে আমদানি নিষিদ্ধ চার হাজার ২০০ কেজি ঘনচিনি (সোডিয়াম সাইক্লামেট) জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ৬ নভেম্বর কায়িক পরীক্ষার মাধ্যমে সংগৃহীত নমুনা ল্যাব পরীক্ষায় পাঠানো হয়। পরীক্ষায় নমুনাগুলোতে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে ঘনচিনি আমদানির বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পলিঅ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড— যা পানি জীবাণুমুক্ত করার একটি কাঁচামাল— ঘোষণা দিয়ে কৃত্রিম এই মিষ্টিকারক আমদানি করা হয়।


চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপ-কমিশনার মো. তারেক মাহমুদ জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এনবিআর জানায়, ঢাকার কেরানীগঞ্জের নামাবাড়ি এলাকার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এজাজ ট্রেডিং চীন থেকে পলিঅ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড ঘোষণা দিয়ে পণ্য আমদানি করে। চালানটি গত ২১ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। খালাসের জন্য বিল অব এন্ট্রি দাখিলের পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাস্টমস পণ্য খালাস স্থগিত করে।


পরবর্তীতে ৬ নভেম্বর চালানটি শতভাগ কায়িক পরীক্ষায় দুই ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। নমুনা ল্যাব পরীক্ষায় ১৭ টন ৮০০ কেজি পলিঅ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড এবং ৪,২০০ কেজি ঘনচিনি শনাক্ত হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ঘনচিনি সাধারণ চিনির চেয়ে ৩০ থেকে ৫০ গুণ বেশি মিষ্টি একটি কৃত্রিম মিষ্টিকারক। বিভিন্ন বেকারি, মিষ্টান্ন, আইসক্রিম, বেভারেজ, জুস, চকোলেট, কনডেন্সড মিল্ক এমনকি শিশুখাদ্যেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সাধারণ চিনির পরিবর্তে এ ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করে থাকে। ঘনচিনি মানবস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক— দীর্ঘমেয়াদে এটি ক্যানসার, কিডনি ও লিভারের মারাত্মক রোগ সৃষ্টি করতে পারে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকার আমদানি নীতি আদেশ ২০২১–২০২৪ অনুযায়ী পণ্যটির আমদানি নিষিদ্ধ করেছে।


কাস্টমসের উপ-কমিশনার (প্রিভেন্টিভ) এইচ এম কবীর জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর এবং ২৮ অক্টোবর পৃথক দুটি চালানে আমদানি করা প্রায় ১০০ টন ঘনচিনি জব্দ করেছিল কাস্টমস।

Leave Your Comments