শাহ্ আলমঃ
কেরানীগঞ্জ, হাজারিবাগ ও সাভার থানা ও উপজেলা এলাকায় দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে মানবাধিকার সুরক্ষা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশন সম্প্রতি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, কেরানীগঞ্জ, ঢাকার বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র দাখিল করেছে। মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধানী কার্যক্রম ও আইনগত সহায়তা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক সার্বিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মানবাধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কেরানীগঞ্জ, হাজারিবাগ ও সাভার থানা জোনাল কমিটি এ অঞ্চলে মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগের একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইতোমধ্যে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে।
আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশনের সভাপতি ইসমাইল জাহাঙ্গীর আলম জানান, মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত ও কার্যকর আইনগত সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক সেবা পৌঁছে দিতে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে মানবাধিকার সুরক্ষা ও জনস্বার্থমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছি। সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে আমাদের কাজকে আরও শক্তিশালী করতে প্রশাসনিক সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজন। এজন্যই সম্মানিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদন দাখিল করা হয়েছে।”
আবেদনে উল্লেখ করা হয়— সংগঠনটি শুধু মানবাধিকার সুরক্ষা নয়, বরং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য নানা ধরনের সামাজিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা কর্মসূচি, পথশিশুদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, এতিম ও গৃহহীন মানুষের নিয়মিত সহায়তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জরুরি ত্রাণ প্রদানসহ নানামুখী প্রকল্প তাদের চলমান কার্যক্রমের অংশ। এসব মানবিক উদ্যোগ অধিক কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব মনে করে— বর্তমান সমাজে মানবাধিকার লঙ্ঘন, ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ণকরণ, মাদক ও সামাজিক অপরাধের বিস্তারসহ নানা সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের পাশাপাশি বেসরকারি মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানী কার্যক্রমকে আরো দ্রুততর করতে প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা, যথাযথ অনুমোদন এবং প্রশাসনিক সমন্বয়। সেই লক্ষ্যে এবারের আবেদনটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পেশ করা হয়েছে।
আবেদনপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়— সংগঠনের আইন গবেষণা, জনসচেতনতা কর্মসূচি, সামাজিক সালিশ, মধ্যস্থতা ও আইনি সহায়তা কার্যক্রম বিগত বছরগুলোতে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। বিশেষত নিম্নবিত্ত ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ ও সমাধান প্রদান তাদের অন্যতম সেবা। কেরানীগঞ্জ–হাজারিবাগ–সাভার অঞ্চলে আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যেই সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমন্বিতভাবে নানা সামাজিক প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।
ইসমাইল জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মানবাধিকার সংরক্ষণ, বিচারপ্রার্থী জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা— এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সরকারের উন্নয়নযাত্রার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আমরা আরও গতিশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে চাই। আমাদের প্রয়াস শুধুমাত্র সংগঠনের জন্য নয়, বরং পুরো এলাকার মানুষের কল্যাণে। এজন্য প্রশাসনের সহযোগিতা আমাদের কাজকে আরও সুদৃঢ় ও টেকসই করবে।”
তিনি আরও জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শুরু করে মানবিক সহায়তার প্রতিটি কর্মকাণ্ড সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফল হয়। এজন্য তিনি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, উপদেষ্টা ও সদস্যবৃন্দকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশন আগামী দিনে আরও বৃহত্তর পরিসরে মানুষের সেবা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারবে। সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে তারা আগামীতেও নিরলস কাজ চালিয়ে যাবে বলে তিনি জানান।
সর্ব শেষে সভাপতি ইসমাইল জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “জনসেবার উদ্দেশ্যে আমাদের এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। সমাজের উন্নয়ন, মানবাধিকার সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমাদের ২৮ বছরের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।