কেরানীগঞ্জে প্রশাসনিক সহযোগিতা চেয়ে আসক ফাউন্ডেশনের আনুষ্ঠানিক আবেদন

Date: 2025-12-12
news-banner

শাহ্ আলমঃ 


কেরানীগঞ্জ, হাজারিবাগ ও সাভার থানা ও উপজেলা এলাকায় দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে মানবাধিকার সুরক্ষা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনাকারী আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশন সম্প্রতি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, কেরানীগঞ্জ, ঢাকার বরাবর একটি আনুষ্ঠানিক আবেদনপত্র দাখিল করেছে। মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, অনুসন্ধানী কার্যক্রম ও আইনগত সহায়তা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক সার্বিক সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

‎সংস্থাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মানবাধিকার সচেতনতা বৃদ্ধি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রতিরোধ, সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সাধারণ মানুষের আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কেরানীগঞ্জ, হাজারিবাগ ও সাভার থানা জোনাল কমিটি এ অঞ্চলে মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগের একটি নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইতোমধ্যে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে।

‎আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশনের সভাপতি ইসমাইল জাহাঙ্গীর আলম জানান, মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত ও কার্যকর আইনগত সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক সেবা পৌঁছে দিতে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে মানবাধিকার সুরক্ষা ও জনস্বার্থমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছি। সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে আমাদের কাজকে আরও শক্তিশালী করতে প্রশাসনিক সহায়তা অত্যন্ত প্রয়োজন। এজন্যই সম্মানিত সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর আনুষ্ঠানিক আবেদন দাখিল করা হয়েছে।”

‎আবেদনে উল্লেখ করা হয়— সংগঠনটি শুধু মানবাধিকার সুরক্ষা নয়, বরং সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের জন্য নানা ধরনের সামাজিক দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহায়তা কর্মসূচি, পথশিশুদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, এতিম ও গৃহহীন মানুষের নিয়মিত সহায়তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জরুরি ত্রাণ প্রদানসহ নানামুখী প্রকল্প তাদের চলমান কার্যক্রমের অংশ। এসব মানবিক উদ্যোগ অধিক কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

‎প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্ব মনে করে— বর্তমান সমাজে মানবাধিকার লঙ্ঘন, ভোক্তা অধিকার ক্ষুণ্ণকরণ, মাদক ও সামাজিক অপরাধের বিস্তারসহ নানা সমস্যা মোকাবিলায় সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের পাশাপাশি বেসরকারি মানবাধিকার ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরও সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। মাঠ পর্যায়ের পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানী কার্যক্রমকে আরো দ্রুততর করতে প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা, যথাযথ অনুমোদন এবং প্রশাসনিক সমন্বয়। সেই লক্ষ্যে এবারের আবেদনটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পেশ করা হয়েছে।

‎আবেদনপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়— সংগঠনের আইন গবেষণা, জনসচেতনতা কর্মসূচি, সামাজিক সালিশ, মধ্যস্থতা ও আইনি সহায়তা কার্যক্রম বিগত বছরগুলোতে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করেছে। বিশেষত নিম্নবিত্ত ও অসহায় মানুষের জন্য বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ ও সমাধান প্রদান তাদের অন্যতম সেবা। কেরানীগঞ্জ–হাজারিবাগ–সাভার অঞ্চলে আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশন ইতোমধ্যেই সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার সাথে সমন্বিতভাবে নানা সামাজিক প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

‎ইসমাইল জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “মানবাধিকার সংরক্ষণ, বিচারপ্রার্থী জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা— এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সরকারের উন্নয়নযাত্রার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে আমরা আরও গতিশীল ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে চাই। আমাদের প্রয়াস শুধুমাত্র সংগঠনের জন্য নয়, বরং পুরো এলাকার মানুষের কল্যাণে। এজন্য প্রশাসনের সহযোগিতা আমাদের কাজকে আরও সুদৃঢ় ও টেকসই করবে।”

‎তিনি আরও জানান, সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে শুরু করে মানবিক সহায়তার প্রতিটি কর্মকাণ্ড সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফল হয়। এজন্য তিনি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি, উপদেষ্টা ও সদস্যবৃন্দকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

‎সংগঠনটির পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে আইন সহায়তা কেন্দ্র ফাউন্ডেশন আগামী দিনে আরও বৃহত্তর পরিসরে মানুষের সেবা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারবে। সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কল্যাণে তারা আগামীতেও নিরলস কাজ চালিয়ে যাবে বলে তিনি জানান।

‎সর্ব শেষে সভাপতি ইসমাইল জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “জনসেবার উদ্দেশ্যে আমাদের এ উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। সমাজের উন্নয়ন, মানবাধিকার সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আমাদের ২৮ বছরের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী ও বেগবান করবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

Leave Your Comments