মরক্কোর আটলান্টিক উপকূলীয় প্রদেশ সাফিতে আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। প্রবল বর্ষণের ফলে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) হঠাৎ করেই ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানায়।
সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) কর্তৃপক্ষ জানায়, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন অন্তত ১৪ জন, যারমধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গত শনিবার থেকে ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয় অঞ্চলটিতে। আর তাতেই বন্যায় ডুবে যায় অনেকের বাড়িঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। পানিতে ভেসে যায় বেশকয়েকটি যানবাহন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কাদামাটির স্রোতে গাড়ি ভেসে যাচ্ছে। রাজধানী রাবাত থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত সাফি শহরের পুরোনো এলাকায় মাত্র এক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে প্লাবিত হয় অন্তত ৭০টি বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সড়ক যোগাযোগ। বন্দরনগরী সাফির সঙ্গে আশপাশের বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাফি-হ্রারা সংযোগকারী প্রাদেশিক সড়ক। বন্যার কারণে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লাস স্থগিত করেছে স্থানীয় শিক্ষা কর্তৃপক্ষ।
রোববার (১৪ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সন্ধ্যার পর পানি নামতে শুরু করলেও, মানুষ এখনো কাদামাটির ভেতর থেকে নিজেদের জিনিসপত্র উদ্ধারে ব্যস্ত। এদিকে আবহাওয়া বিভাগ মঙ্গলবারও দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে।
দীর্ঘ ৭ বছরের খরার পর মরক্কোতে এখন ভারী বৃষ্টি ও এটলাস পর্বতমালায় তুষারপাত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, ২০২৪ সাল ছিল মরক্কোর ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ বছর।