আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরোঃ ইসলামী সমমনা দলগুলোর জোট নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে। ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে এসে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে ২৬৮টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোট ত্যাগের বিভিন্ন কারণ তুলে ধরার পাশাপাশি দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়।
এর ফলে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সাধারণ ভোটারদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে ঘিরে যে ধোঁয়াশা ছিল, তা অনেকটাই কেটে গেছে। বিশেষ করে বিভাগের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত বরিশাল সদর-৫ আসনে কাকে প্রার্থী করা হবে—এ নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই চলছিল আলোচনা ও জল্পনা।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী দলটির সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম মনোনয়নপত্র দাখিল করার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শুরু থেকেই এ আসনটি ইসলামী আন্দোলন নিজেদের দাবি করে আসছিল। তাদের যুক্তি ছিল—দলটির আমীরের বাড়ি এই এলাকায় হওয়ায় আসনটি তাদের পাওয়াই যুক্তিসংগত।
এমনকি কয়েকদিন আগে এক সংবাদ সম্মেলনে মুফতি ফয়জুল করিম ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, “যেহেতু এটি আমীরের আসন, সেহেতু অন্য কারো দাবি অযৌক্তিক।” তবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে জামায়াতের সঙ্গে দীর্ঘ দরকষাকষি হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। উভয় দলই বরিশাল সদরের মতো গুরুত্বপূর্ণ আসন ছাড়তে রাজি না হওয়ায় ভেতরে ভেতরে দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে ওঠে।
অবশেষে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে প্রার্থী ঘোষণা করায় সেই জটিলতার অবসান ঘটে। ফলে বরিশাল সদর-৫ আসনে এবার নিজ নিজ দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করিম ও অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল।
এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে এ আসনে শক্ত প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন সাবেক চারবারের সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা, আর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
সাধারণ ভোটারদের মতে, আসন্ন নির্বাচনে বরিশাল সদর-৫ আসনে হতে যাচ্ছে একটি ত্রিমুখী লড়াই। শুরুতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলন যৌথ প্রার্থী দিলে বিএনপির জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে—এমন ধারণা থাকলেও জোট ভেঙে যাওয়ায় সেই আশঙ্কা কিছুটা হলেও কমেছে।