মতলব উত্তরে বসতভিটা দখলকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর-হামলা, থানায় অভিযোগ

Date: 2026-01-17
news-banner



শামীম আহমেদ জয় : মতলব, চাঁদপুর। 
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় বসতভিটা জোরপূর্বক দখল, ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও নারীসহ কন্যা সন্তানদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিউলী বেগম (৪০)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের দক্ষিণ সরদারকান্দি গ্রামের একই বাড়ির অংশীদারদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। শিউলী বেগম অভিযোগ করেন, তার কোনো পুত্র সন্তান না থাকায় স্বামীর মালিকানাধীন জমি তার নামে রেজিস্ট্রি করায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন ভাসুরের সন্তানরা। এরপর থেকেই তারা জমি দখলের উদ্দেশ্যে নিয়মিত হুমকি, মারধর ও নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।


অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৩ জানুয়ারি সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে শিউলী বেগমের স্বামী বাড়িতে না থাকার সুযোগে বিবাদী বাবু, রিয়াদ, লাইলি, আমেনা'সহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে সঙ্গে নিয়ে জোরপূর্বক বসতভিটায় প্রবেশ করে। এ সময় একটি গোয়ালঘর, একটি দোচালা ঘর ও একটি পাকা ঘর ভেঙে ফেলে এবং ঘরে থাকা আসবাবপত্র ভাঙচুর করে প্রায় এক লক্ষ টাকার ক্ষতি সাধন করা হয়। বাধা দিতে গেলে শিউলী বেগম ও তার কন্যাদের মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়। স্থানীয়দের ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করে।

অভিযোগকারী শিউলি বেগম আরও বলেন, অভিযুক্তরা বর্তমানে ওই জমিতে জোরপূর্বক ঘর নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এবং বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি।

এদিকে অসহায় ভুক্তভোগী শিউলী বেগম, তার স্বামী মনির হোসেন মাল এবং চার কন্যা সন্তান সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


অন্যদিকে অভিযুক্ত লাইলী আক্তার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই জমি আমার বাবা রবিউল্ল্যা মাল অনেক আগেই তাদের থেকে ক্রয় করেছেন। পরবর্তীতে বাবা আমাকে লিখে দিয়েছেন। আমার কাছে সব বৈধ দলিলপত্র রয়েছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হয়েছে। তারা দুই মাস আগেই জমি ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এখনো যায়নি। বাধ্য হয়েই আমি এই ব্যবস্থা নিয়েছি।

ঘটনার পরপরই মতলব উত্তর থানার এএসআই মনির হোসাইন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, ঘটনাটি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি। লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়, সে বিষয়ে আমরা সতর্ক আছি।

Leave Your Comments