আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):
বহুতল ভবন নির্মাণে রাজউকের নিয়ম-নীতি মানা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, বরং নগর জীবনের নিরাপত্তা ও স্থায়িত্বের জন্য অপরিহার্য। তদুপরি “এখন যারা বাড়ি করতেছে, যাদের বাড়ি কমপ্লিট হয় নাই, তাদেরকে আমাদের (রাজউক) নকশার বাইরে এক চুল ছাড় দিব না।” রাজউকের এমন হুঁশিয়ারিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঝুকিপূর্ণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সুযোগ সন্ধানীরা। বিভিন্ন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ও জমির মালিক রাজউকের নিময়কে “থোরাই কেয়ার” করে নিজেদের স্বার্থে দেদারসে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। যেন কারো কাছে কোনো জবাবদিহিতা নেই। পুরান ঢাকায় নির্মানাধীন ভবনে বিভিন্ন অনিয়ম বিষয়ে উপর্যুক্ত শিরোণামে “বার্তা বিচিত্রা” পত্রিকায় ইতোমধ্যে পর পর তিনটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহনে রাজউকের কর্মতৎপরতা লক্ষ্য করা গেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই নগন্য।
এবার রাজউকের জোন-৫ এর আওতাধীন রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর থানা এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ভয়াবহ চিত্র, বিভিন্ন সরু রাস্তার পাশে বহু বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ চলছে। কিন্তু কোনোটিতেই মানা হচ্ছে না রাজউকের “সেটব্যাক” ও “ফার” এর নিয়ম-নীতি। এমনকি কত তলা ভবন করা হবে, তার কোনো প্ল্যানও নেই। নির্মাণাধীন এসব ভবনের কোনোটিতেই নির্মাণ সংশ্লিষ্ট তথ্যচিত্র টাঙ্গানো নাই। সবই চলছে নিজেদের সুবিধা মতো বানানো নিয়মের মধ্য দিয়ে, সেখানে রাজউকের বিধিমালা “থোরাই কেয়ার।”
মাদ্রাসা গলি, মীম স্কুল গলি, কাজী বাড়ি গলি, স্পট (গাঁজা বিক্রয়ের গলি বলে পরিচিত) গলি, আলীনগর, মাতবর বাজার ও রসুলপুরসহ কামরাঙ্গীরচর থানাধীন বিভিন্ন এলাকার অলিতে-গলিতে রাজউকের নিয়ম বহির্ভূত বহু নির্মাণাধীন ভবনের কাজ দাপটের সাথে চলমান রয়েছে। এসব দেখার যেন কেউ নেই। যদিও রাজউক থেকে দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত রয়েছেন তিনজন ইমারত পরিদর্শক। এখানে নগরায়ণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে এক ভয়াবহ বিপদের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন এলাকার সচেতন মহল।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শক সাদ্দাম হোসেন ও পিংকু দেবনাথ বার্তা বিচিত্রা’কে দেয়া বক্তব্যে বলেন, “এখানে নির্মাণাধীন ভবনগুলোর রাজউক প্ল্যান নাই, আমরা পরিদর্শনে গেলে তারা তা দেখাতে পারে না। আমরা তখন তাদেরকে নোটিশ করি, কিন্তু কেউ কথা শোনে না।” তাঁরা আরও বলেন, “পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” প্রশ্ন হচ্ছে, এগুলো দেখভাল করবার দায়িত্ব কার এবং তিনি কিভাবে দেখভাল করছেন যে, “কেউ কথা শোনে না!” এ বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেখুন পরের পর্বে।