কাশিমপুর পশ্চিম বাগবাড়িতে ভূমিদস্যু নয়নের ত্রাস অপকর্মের সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ।

Date: 2026-01-18
news-banner



শেখ রাসেল বিশেষ প্রতিনিধি:

গাজীপুরের কাশিমপুর পশ্চিম বাগবাড়ি এলাকায়, কাটন ফ্যাক্টরির পাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সন্ত্রাসী ভূমিদস্যু নয়নের দাপটে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, আক্কাস আলীর ছেলে নয়ন দীর্ঘদিন ধরে একক আধিপত্য কায়েম করে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জমি ও স্থাপনা দখল করে আসছে।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, নয়নের কথার বিরোধিতা করলেই শুরু হয় প্রকাশ্য হুমকি। সম্পত্তি ছেড়ে না দিলে প্রাণনাশের ভয় দেখানো হয়। মাঝেমধ্যেই দেশীয় অস্ত্র হাতে নয়ন ও তার সহযোগীদের এলাকায় মহড়া দিতে দেখা যায়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভীতি তৈরি করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, নয়নের নজরে যেই জমি পড়ে সেটিই দখলের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মালিকদের সরিয়ে দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে জমির বৈধ কাগজপত্র দেখানোর সুযোগও দেওয়া হয় না।

নিরাপত্তাহীনতার কারণে অধিকাংশ ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে অভিযোগ জানাতে সাহস পাচ্ছেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সূর্যাস্তের পর নয়ন বাহিনীর তৎপরতা আরও বেড়ে যায়। রাতভর সশস্ত্র চলাচল ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে পুরো এলাকাকে কার্যত জিম্মি করে রাখা হচ্ছে।

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের হুমকি
অভিযোগ রয়েছে, নয়নের ভূমিদস্যুতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর থেকে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক ও গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিভিন্ন মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখিয়ে সংবাদ বন্ধ করার চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে জানান একাধিক গণমাধ্যম কর্মী। বিষয়টি সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ তৈরি করেছে এবং স্বাধীনভাবে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশে বড় ধরনের বাধা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ভূমিদস্যুতা ও সাংবাদিকদের হুমকি একই সূত্রে গাঁথা। দখল ও সন্ত্রাস আড়াল করতেই ভয় দেখানো হচ্ছে। তারা দ্রুত দখলকৃত জমির তালিকা প্রণয়ন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং নয়নসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।

আইন ও ভূমি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, জরুরি ভিত্তিতে যৌথ অভিযান, ভূমি রেকর্ড যাচাই এবং দখলমুক্তকরণ কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন। ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে অভিযোগ গ্রহণের কার্যকর ব্যবস্থা না হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। এলাকাভিত্তিক নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর তাগিদও দেন তারা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, ভূমি দখল, সন্ত্রাসী তৎপরতা কিংবা সাংবাদিকদের হুমকির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাস দমনে নিয়মিত অভিযান চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয়।
এলাকাবাসী ও সাংবাদিকদের প্রত্যাশা, প্রশাসন ও পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে দ্রুত ভূমিদস্যু নয়নের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে এবং সাধারণ মানুষের পাশাপাশি গণমাধ্যম কর্মীরাও নিরাপদ পরিবেশে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

Leave Your Comments