আশুলিয়ায় সংঘবদ্ধ ফিটিং চক্রের ফাঁদে সাধারণ মানুষ প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন!

Date: 2026-01-19
news-banner



শেখ রাসেল বিশেষ প্রতিনিধি:

থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগের নথি ঘেঁটে উঠে এসেছে একটি সংঘবদ্ধ ফিটিং চক্রের ভয়াবহ চিত্র। অভিযোগ অনুযায়ী এক নারীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই চক্র পরিকল্পিতভাবে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে ফাঁদে ফেলছে।

ভয়ভীতি ও শারীরিক নির্যাতনের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছে নগদ অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী। দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চললেও প্রশাসনিক পদক্ষেপ চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ রয়েছে। 

অভিযোগপত্রে বলা হয় ভুক্তভোগী একজন মাছ ব্যবসায়ী,পরিচয়ের সূত্র ধরে অভিযুক্ত নারী ও তার সহযোগীরা তাকে বিশ্বাসে নিয়ে নির্দিষ্ট ঠিকানায় ডেকে নেয়। সেখানে পৌঁছানোর পর শুরু হয় কৌশলী আচরণ। 

এরপর হঠাৎ পরিস্থিতি বদলে যায় অভিযোগ অনুযায়ী তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হয় ওই সময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং বিভিন্ন নম্বরে ফোন করিয়ে আরও অর্থ আদায় করা হয়।

ভুক্তভোগীর ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যবহার করে তার পরিবারের সদস্য ও পরিচিতজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। একাধিক দফায় বিকাশ ও নগদে টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী মোট আদায়কৃত টাকার পরিমাণ প্রায় এক লক্ষ টাকার কাছাকাছি, শুধু অর্থ নয় অভিযুক্তরা ঘটনার কথা প্রকাশ না করার শর্তে হুমকি দেয় এবং ভবিষ্যতে মামলা করলে প্রাণনাশের ভয় দেখায়।

অভিযোগের ভাষ্য অনুযায়ী এই নারী একা নন তার সঙ্গে একাধিক পুরুষ সদস্য নিয়মিতভাবে এই ফিটিং কার্যক্রমে জড়িত নির্দিষ্ট বাসা ও লোকেশন ব্যবহার করে টার্গেট ডেকে আনা পরে সংঘবদ্ধভাবে ফাঁদে ফেলে অর্থ আদায় করাই তাদের মূল কৌশল।
 
স্থানীয়ভাবে একাধিক ভুক্তভোগী থাকার কথাও  ইঙ্গিত করা হয়েছে যদিও ভয় ও সামাজিক চাপের কারণে অনেকেই মুখ খুলতে চান না।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো অভিযোগে বলা হয়েছে এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় থাকলেও কার্যকর কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয় পর্যায়ে একাধিকবার বিষয়টি জানানো হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগকারীর দাবি।

এইবিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগের নথিতে যেসব তথ্য, নম্বর ও সময় উল্লেখ রয়েছে, সেগুলো যাচাই করলে একটি সুসংগঠিত অপরাধচক্রের অস্তিত্ব স্পষ্টভাবে অনুসন্ধানের দাবি রাখে।

সাধারণ মানুষের প্রশ্ন এমন অভিযোগের পরও যদি দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে এই ফিটিং চক্র আরও কতজনকে সর্বস্বান্ত করবে। প্রশাসনের নীরবতা ভাঙবে কবে সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Leave Your Comments