আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশালঃ
ঋণখেলাপিদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সচেতন মহল ও বিভিন্ন সামাজিক বিশ্লেষকের মতে, যদি ঋণখেলাপিরা সাংবিধানিকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান, তবে ন্যায়বিচারের স্বার্থে সাধারণ ঋণগ্রস্ত জনগণের প্রতিও রাষ্ট্রের সমান দায়বদ্ধতা থাকা উচিত।
তাদের দাবি, দেশের লাখো মানুষ ব্যাংক, এনজিও ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণের বোঝা বহন করছেন। সময়মতো কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হলে তারা আইনি নোটিশ, সামাজিক চাপ ও নানা হয়রানির মুখে পড়েন। অথচ বড় অঙ্কের ঋণখেলাপিরা রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন—যা স্পষ্ট বৈষম্যের ইঙ্গিত দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্র যদি নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অধিকার প্রদানের ক্ষেত্রে ঋণখেলাপিদের জন্য শিথিলতা দেখায়, তবে একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের ঋণের দায়ভারও পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। অন্তত ব্যাংক ও এনজিও ঋণের ক্ষেত্রে সুদ মওকুফ, পুনঃতফসিল অথবা রাষ্ট্রীয়ভাবে দায়ভার গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।
তারা আরও বলেন, তা না হলে এটি সাধারণ মানুষের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে, যা সামাজিক ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। বিষয়টি নিয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের স্পষ্ট অবস্থান প্রত্যাশা করছেন তারা।