নিজস্ব প্রতিবেদক
গণপূর্ত অধিদপ্তরে (পিডব্লিউডি) এক বিতর্কিত কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর উদ্যোগ নিয়ে প্রশাসনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক সরকারের কৃষিমন্ত্রীর সরাসরি সুপারিশে মালিক খসরু নামের এক কর্মকর্তাকে ঢাকার একটি সংবেদনশীল কারিগরি পদে পদায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সাবেক কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, এমপি-এর ব্যক্তিগত প্যাডে পাঠানো এক সুপারিশপত্রে মালিক খসরুকে গণপূর্ত ই/এম উপ-বিভাগ–২, ঢাকায় উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ই/এম) হিসেবে পদায়নের অনুরোধ জানানো হয়। চিঠিতে তার পেশাগত যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতার কোনো উল্লেখ নেই। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি মন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা এবং দায়িত্ব পেলে ‘ইতিবাচক ভূমিকা’ রাখবেন।
তবে প্রশাসনের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, মালিক খসরুর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তিনি একটি প্রভাবশালী ক্ষমতাবলয়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এবং সেই প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সময় লাভজনক ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে পদায়নের চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন।
সূত্রগুলো জানায়, জ্যেষ্ঠতা ও পেশাগত দক্ষতার স্বচ্ছ রেকর্ড না থাকলেও রাজনৈতিক সুপারিশের কারণে তার পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে করে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো একটি কারিগরি ও আর্থিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে স্বার্থসংশ্লিষ্টতা ও দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রশাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ধরনের সুপারিশভিত্তিক পদায়ন সরকারি কর্মচারী আচরণবিধি ও প্রশাসনিক নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে একদিকে যোগ্য কর্মকর্তারা বঞ্চিত হন, অন্যদিকে অনিয়মে জড়িতদের জন্য নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন,
“কারিগরি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সুপারিশ প্রশাসনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এতে সিস্টেম দুর্বল হয় এবং দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়।”এ বিষয়ে মালিক খসরুর কাছে চাইলে তিনি বলেন আমার বিরুদ্ধে আনিতো অভিযোগগুলো সত্য নয় এর আগেও আমার বিরুদ্ধে একাধিক পত্রিকায় নিউজ হয়েছে।
এ ঘটনায় প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এ ধরনের বিতর্কিত পদায়নের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত না নিলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। বিস্তারিত পরবর্তী সংখ্যায়।