মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব

Date: 2026-01-21
news-banner

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি শক্তিশালী দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে প্রতি মাসে প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার অবৈধ লেনদেন হচ্ছে এবং এর ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুদক চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগটি দাখিল করেন জাতীয় দৈনিক ‘বার্তা বিচিত্রা’–এর স্টাফ রিপোর্টার ফরাদ হোসেন মুরাদ।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মিরপুর-১ সাব-রেজিস্ট্রি অফিস বর্তমানে সাব-রেজিস্ট্রার সাদ্দাম হোসেন খান–এর নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ দুর্নীতিচক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে উমেদার ফজর আলী (ওরফে ইব্রাহিম), উমেদার সবুজ এবং সাবেক নাইট গার্ড মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন–এর নাম উঠে এসেছে। তাদের প্রত্যক্ষ তদারকিতেই অফিসে প্রতিটি দলিলে বাধ্যতামূলকভাবে ঘুষ বা ‘স্পিড মানি’ আদায় করা হচ্ছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সরকারি নির্ধারিত ফি পরিশোধের পরও সাধারণ দলিল নিবন্ধনে ৩০ হাজার থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়। আমমোক্তারনামা ও দানপত্রের মতো বিশেষ দলিলে ক্ষেত্রবিশেষে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ দাবি করা হয়।

এছাড়া সিন্ডিকেটটি জমির প্রকৃত বাজারমূল্য গোপন করে কম দামে দলিল রেজিস্ট্রির সুযোগ করে দেয়। বায়না দলিলের সময় এক ধরনের মূল্য দেখানো হলেও চূড়ান্ত দলিলে সরকারের কর ফাঁকি দিতে জমির মূল্য কয়েকগুণ কম দেখানো হয়। এতে সরকার প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়ছে।

ভুক্তভোগী ও দলিল লেখকদের দেওয়া তথ্যমতে, উমেদার ফজর আলী, সবুজ ও শাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বাধীন এই সিন্ডিকেটকে ঘুষ না দিলে বৈধ দলিলেও ইচ্ছাকৃতভাবে নানা ত্রুটি দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে চরম হয়রানির শিকার করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, এই অফিসে প্রতি মাসে প্রায় ৫ থেকে ৭ কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য পরিচালিত হয়, যার প্রায় ৪০ শতাংশ সরাসরি সাব-রেজিস্ট্রার সাদ্দাম হোসেন খান গ্রহণ করেন এবং বাকি অর্থ সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে ভাগ হয়ে যায়।

অভিযোগকারী সাংবাদিক ফরাদ হোসেন মুরাদ জানান, সম্প্রতি ‘বার্তা বিচিত্রা’ পত্রিকায় এই ভয়াবহ দুর্নীতির ওপর তিন পর্বের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ শুরু হয়েছে, যার প্রথম পর্ব ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদন প্রকাশের পর অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। এমনকি উমেদার সবুজ ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করলেও ভিডিও ফুটেজের প্রসঙ্গ উঠতেই ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

তিনি আরো বলেন, দুর্নীতির এই অদৃশ্য সাম্রাজ্য ভেঙে না দিলে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ক্ষয় এবং জনদুর্ভোগ আরও বাড়বে। সে কারণে অবিলম্বে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে স্বাধীন ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করে দোষীদের শাস্তির মাধ্যমে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপনের জোর দাবি জানানো হয়েছে।

Leave Your Comments