এক বিভাগে পাঁচ বছর: অনিয়মের অভিযোগে শেরেবাংলানগর গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী মোয়াজ্জেম হোসেন

Date: 2026-01-25
news-banner


নিজস্ব প্রতিবেদক
গণপূর্ত অধিদপ্তর দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা একটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা, সচিবালয়, সরকারি দপ্তর ও আবাসিক ভবনসহ অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার নির্মাণ ও সংস্কার কার্যক্রম এই অধিদপ্তরের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। ফলে এ প্রতিষ্ঠানের আওতাধীন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তাদের কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই প্রেক্ষাপটে শেরেবাংলানগর গণপূর্ত বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেনকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে অনিয়ম সংক্রান্ত নানা অভিযোগ ও প্রতিবেদন বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব অভিযোগ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ পদে সাধারণত তিন বছরের বেশি সময় একই স্থানে দায়িত্ব পালন না করার নীতি থাকলেও মোয়াজ্জেম হোসেন প্রায় পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে একই বিভাগে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে—কীভাবে তিনি দীর্ঘ সময় একই বিভাগে বহাল রয়েছেন এবং এর পেছনে কোনো ধরনের প্রভাব বা তদবির কাজ করছে কি না।
জানা গেছে, শেরেবাংলানগর এলাকা জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন হওয়ায় এখানকার প্রকল্পগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উচ্চমূল্যের। নিয়ম অনুযায়ী এসব প্রকল্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড নিবিড় তদারকির আওতায় থাকার কথা। তবে বাস্তবে সেই তদারকি কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, শেরেবাংলানগর গণপূর্ত বিভাগ-১ এ বাস্তবায়িত বিভিন্ন উন্নয়ন, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পে ঠিকাদারি কাজ বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা হয়নি। কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্দিষ্ট কয়েকজন ঠিকাদার বারবার কাজ পাওয়ায় প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, নির্বাহী প্রকৌশলীর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও পরিচিত মহল সংশ্লিষ্ট কিছু ঠিকাদার বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন। এসব অভিযোগের কারণে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ হচ্ছে কি না—তা নিয়েও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মোয়াজ্জেম হোসেন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের দায়িত্বশীল মহলের মতে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হলে একদিকে যেমন জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে সরকারি উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতাও বাড়বে।

Leave Your Comments