আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল ব্যুরো:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝালকাঠি-২ (সদর ও নলছিটি) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। ব্যতিক্রমী এক বাস্তবতায় এই আসনে প্রধান তিন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাড়িই নলছিটি উপজেলায়। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের তিন শক্তিশালী প্রার্থীকে ঘিরে ভোটারদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক কৌতূহল ও আলোচনা।
এলাকার সাধারণ ভোটারদের বড় একটি অংশ এখনো সিদ্ধান্তহীন। তাদের ভাষ্য, তিনজন প্রার্থীই নিজ নিজ অবস্থানে পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার অধিকারী। ফলে কাউকে তুলনামূলকভাবে দুর্বল বলা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো প্রয়াত সংসদ সদস্য জুলফিকার আলী ভুট্টোর সহধর্মিণী। নলছিটির রাজনীতিতে ‘ভুট্টো পরিবার’ দীর্ঘদিন ধরেই জনপ্রিয়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশের কাছে এই পরিবার এখনো আস্থার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
তবে এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের শক্ত অবস্থান বিএনপির ঐতিহ্যগত ভোটব্যাংকে কিছুটা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। স্থানীয় পর্যায়ে ইসলামপন্থি দলগুলোর প্রতি ভোটারদের আগ্রহ বাড়তে দেখা যাচ্ছে, যা বিএনপির ব্যবধান কমাতে পারে।
তবে বিএনপি নেতাকর্মীরা আশাবাদী। তাদের দাবি, নলছিটিতে কিছু ভোট কমলেও ঝালকাঠি সদর উপজেলা থেকে সেই ঘাটতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। সদর উপজেলায় দলীয় সাংগঠনিক শক্তি বেশি থাকায় সেখানে ভালো ফলের ব্যাপারে তারা আত্মবিশ্বাসী।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম বরিশাল বিএম কলেজের সাবেক এজিএস। ছাত্রজীবনে সামাজিক ও শিক্ষামূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় আজও এলাকায় তার আলাদা পরিচিতি রয়েছে। পাশাপাশি মসজিদ নির্মাণ ও নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করার মতো সামাজিক উদ্যোগ তাকে জনপ্রিয় করেছে।
ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ডা. সিরাজুল ইসলাম সিরাজী একজন ধর্মীয় বক্তা হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে নলছিটিতে বসবাস এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তার বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
অনেক ভোটারের মতে, ইসলামপন্থি দলগুলো জোটবদ্ধ থাকলে এই আসনে আরও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হতো। তবে জোট না থাকায় ইসলামপন্থি ভোট বিভক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
সব মিলিয়ে ঝালকাঠি-২ আসনের নির্বাচন এবার পরিণত হয়েছে ব্যক্তি ইমেজ, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার এক ত্রিমুখী প্রতিযোগিতায়। শেষ পর্যন্ত কে বিজয়ী হন, তা জানতে মুখিয়ে রয়েছে পুরো এলাকার ভোটাররা।