আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল বরিশাল ব্যুরোঃ
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠছে বরিশাল-৫ আসনের নগর ও গ্রামাঞ্চল। পোস্টার, ব্যানার, মাইকিং ও গণসংযোগে সরগরম পুরো নির্বাচনী এলাকা। এরই মধ্যে এই আসনটি পরিণত হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আলোচিত রাজনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে।
১১ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বের হয়ে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পর বরিশাল-৫ আসনে রাজনৈতিক সমীকরণে আসে বড় পরিবর্তন। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী সরে দাঁড়িয়ে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ায় ভোটের মাঠে সৃষ্টি হয়েছে নতুন মেরুকরণ।
এ আসনে মূলত দুই প্রতীকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে নির্বাচনী প্রতিযোগিতা। একদিকে বিএনপির ধানের শীষ, অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা। নির্বাচনী প্রচারণায় সবচেয়ে আলোচিত দুই নাম—বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম।
ভোটারদের মুখে মুখে এখন একটি মন্তব্যই বেশি শোনা যাচ্ছে—
“হাতপাখার বাতাসে দুলছে ধানের শীষ।”
অনেক ভোটারের ধারণা, শেষ মুহূর্তে আওয়ামী লীগের সমর্থকদের অবস্থানই এই আসনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বরিশাল-৫ আসন বিএনপির জন্য ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলেও দলটির ভেতরে চাপা অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। মজিবর রহমান সরোয়ার পুনরায় প্রার্থী হওয়ায় মাঠে নামলেও মনোনয়ন না পাওয়ায় দলের একটি অংশ এখনও পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি। বিশেষ করে মহানগর বিএনপির একাংশের নীরবতা দলটির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বিএনপি প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন,
“বরিশাল বিএনপির শক্ত ঘাঁটি। মানুষ শেষ পর্যন্ত ধানের শীষেই ভোট দেবে।”
অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমের পক্ষে রয়েছে সুসংগঠিত ভোটব্যাংক। সর্বশেষ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি ৩০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিলেন। এবারের সংসদীয় আসনে যুক্ত হওয়া নতুন ইউনিয়নগুলোতে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের সমর্থন তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি দলটির নেতাকর্মীদের।
ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বলছেন, আওয়ামী লীগের একটি অংশের ভোটও এবার তাদের দিকে ঝুঁকতে পারে। পাশাপাশি সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিষয়টিও প্রচারণায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
ভোটারদের ভাবনায়ও স্পষ্ট হয়ে উঠছে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা। নগরীর বাসিন্দা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন,
“বরিশাল একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি ছিল। এখন মানুষ নতুন মুখ ও নতুন রাজনৈতিক ধারা দেখতে চায়।”
সব মিলিয়ে বরিশাল-৫ আসনের এবারের নির্বাচন শুধু একটি আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়—এটি পরিবর্তন বনাম অভিজ্ঞতা এবং নতুন রাজনীতির প্রত্যাশা বনাম পুরোনো ধারার রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
ফলাফল যাই হোক, বরিশালের এই ভোটের লড়াই জাতীয় রাজনীতিতেও উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।