মোঃ বশির আহমেদ সানি:
সরকারি ছুটি, মসজিদে মসজিদে বিশেষ দোয়া, নফল ইবাদত ও ওয়াজ মাহফিল
আজ মঙ্গলবার (৩ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে পবিত্র শবে বরাত পালিত হচ্ছে। হিজরি শাবান মাসের ১৪ ও ১৫ তারিখের মধ্যবর্তী এই রাত মুসলমানদের কাছে ‘লাইলাতুল বরাত’ বা সৌভাগ্যের রজনী হিসেবে পরিচিত। এ রাতে মহান আল্লাহ তাআলার বিশেষ রহমত ও ক্ষমা লাভের আশায় সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহ নফল ইবাদত ও দোয়া-মোনাজাতে মগ্ন থাকেন।
শবে বরাত উপলক্ষ্যে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সারাদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাতটি পালন করছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
হাদিসে শবে বরাতের মর্যাদা:
হাদিস শরিফে শবে বরাতের ফজিলত সম্পর্কে একাধিক বর্ণনা পাওয়া যায়। হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
‘যখন শাবানের মধ্যভাগের রাত আসে, তখন তোমরা নামাজ আদায় করো এবং পরদিন রোজা রাখো। কারণ আল্লাহ তাআলা এ রাতে নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে বলেন— কেউ কি আমার কাছে ক্ষমা চাইবে, আমি তাকে ক্ষমা করব? কেউ কি রিজিক চাইবে, আমি তাকে রিজিক দেব?’ (সুনানে ইবনে মাজাহ)।
অন্য এক হাদিসে আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা অর্ধ-শাবানের রাতে তাঁর সৃষ্টির দিকে দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।’
ইবাদত-বন্দেগিতে রাত কাটাচ্ছেন মুসল্লিরা,
শবে বরাতের রাতে মুসল্লিরা নফল নামাজ, কোরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন। অনেকেই এ উপলক্ষ্যে পরদিন নফল রোজা রাখেন। পাশাপাশি সামর্থ্যবানরা দান-সদকা করে থাকেন এবং মৃত স্বজনদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় কবর জিয়ারত করেন।
বর্জনীয় বিষয়ে আলেমদের আহ্বান
ইসলামি চিন্তাবিদ ও আলেম সমাজ শবে বরাত পালনের ক্ষেত্রে অপব্যয় ও অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে আতশবাজি বা পটকা ফোটানো, অতিরিক্ত আলোকসজ্জা, দলবেঁধে উচ্চস্বরে রাস্তায় ঘোরাঘুরি এবং শবে বরাতকে খাবারের উৎসবে পরিণত করাকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
আলেমদের মতে, শবে বরাত মূলত আত্মশুদ্ধি ও ক্ষমা প্রার্থনার রাত; বাহ্যিক উৎসব নয়।
দেশজুড়ে ধর্মীয় আয়োজন:
শবে বরাত উপলক্ষ্যে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন বেসরকারি টিভি চ্যানেল ও রেডিও শবে বরাত উপলক্ষ্যে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমগুলো প্রকাশ করেছে বিশেষ ক্রোড়পত্র।