সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা বাগবাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে সেবা গ্রহীতাদের মাঝে। নামজারি, খাজনা আদায়, জমি ভাগ-বাটোয়ারা কিংবা জমির পরচা তোলাসহ প্রায় সব সেবাতেই অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সরকারি নিয়মে এখানে কোনো কাজই হচ্ছে না; বরং দালালচক্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে অধিকাংশ কার্যক্রম।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অফিসের সহায়ক বীনা রানী দাসসহ কয়েকজন কর্মচারী ও দালালদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভূমি-সংক্রান্ত কাজ নিয়ন্ত্রণ করছে। ফাইল চলাচল থেকে শুরু করে নামজারির অনুমোদন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হচ্ছে। দালালদের মাধ্যমে কাজ না করলে ফাইল এগোয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে।
নামজারির সরকারি ফি ১,১৫০ টাকা হলেও দালালের মাধ্যমে খরচ দাঁড়ায় দ্বিগুণ বা তারও বেশি। খাজনা ও জমির পরচা তুলতে সাধারণ ফি ছাড়াও অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সেবা গ্রহীতারা।
ভুক্তভোগী শ্রী বিকাশ কুমার ভৌমিক অভিযোগ করে বলেন, “নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে ৬,৫০০ টাকা নেওয়া হয়। প্রায় ৯ থেকে ১০ মাস ঘোরানোর পর কাগজ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষ এই হয়রানি থেকে মুক্তি চাই।”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অফিস সহায়ক বীনা রানী দাস বলেন, “হ্যাঁ, আমি চার হাজার টাকা নিয়েছি নামজারীর জন্য, তবে কাজ করে দিয়েছি,।নামজারীতে ও দলিলের নকল তোলা বাবদ অতিরিক্ত টাকা কেন নিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, নামজারীর জন্য অনলাইন আবেদন খরচ হয়েছে ৫০০ টাকা ও দলিলের নকল তোলা বাবদ যে টাকা নিয়েছি তা বুঝেনিত আমি একটু পানটান খাই তাই আরকি।
অন্যদিকে ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, “বীনা রানী একজন অফিস সহায়ক। তিনি এভাবে টাকা নিতে পারেন না। বিষয়টি আমি দেখবো।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার এক প্রতিনিধি বলেন, “ভূমি অফিসে দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য সরকারের রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে দুদকসহ প্রশাসনের জরুরি তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থা প্রয়োজন।”
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের অনিয়ম চললেও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। তাদের দাবি, দালাল সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে জনগণের ভোগান্তি কমে এবং ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ফিরে আসে।