আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশালঃ
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) চাকমা সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী ‘ফুল বিজু’ উদযাপন করেছেন। রোববার (১২ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী কীর্তনখোলা নদীর তীরে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত হয়ে নদীর তীরে সমবেত হন। তারা বিভিন্ন রঙের ফুল দিয়ে ঘাট সাজিয়ে তোলেন। পরে দেশ, পাহাড় ও সকলের মঙ্গল কামনায় নদীর জলে ফুল ভাসিয়ে পুরনো বছরের দুঃখ-গ্লানি বিদায় জানান এবং নতুন বছরকে স্বাগত জানান।
পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্যতম প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বিজু’ তিন দিনব্যাপী পালিত হয়। এর প্রথম দিন ‘ফুল বিজু’, দ্বিতীয় দিন ‘মুর বিজু’ এবং তৃতীয় দিন ‘গোজ্জে পোজ্জে’। এরই ধারাবাহিকতায় ববির চাকমা শিক্ষার্থীরা ‘ফুল বিজু’ পালন করেছেন।
লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী রফিন চাকমা বলেন, বিজু তাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উৎসবের মাধ্যমে তারা নিজেদের শিকড়কে স্মরণ করেন এবং সবার সুখ-শান্তি কামনা করেন। তিনি বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণে রাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রয়োজন।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী স্নেহা চাকমা বলেন, বিজু, সাংগ্রাই ও বৈসুক উৎসব পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক বন্ধন দৃঢ় করে। এ উপলক্ষে প্রতিবছর নানা সাংস্কৃতিক আয়োজন করা হয়।
উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, সমতলে অবস্থান করলেও এই আয়োজনের মাধ্যমে তারা নিজেদের সংস্কৃতি ধারণ ও লালন করছেন এবং সমাজে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান।
উল্লেখ্য, প্রতিবছর চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা বিজু, বৈসু ও সাংগ্রাই উৎসব পালন করে থাকে। কীর্তনখোলার জলে ভাসানো ফুল নতুন বছরের আশা ও সম্ভাবনার প্রতীক হয়ে ওঠে।