আব্দুল্লাহ আল মামুন (প্রধান প্রতিবেদক):
রাজধানী ঢাকায় বর্তমানে ছিনতাইয়ের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। ছুরি বা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে প্রকাশ্যে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে ছিনতাইকারীরা। বাধা দিলে গুলি বা ছুরিকাঘাত করা হচ্ছে, যা নগরবাসীর জন্য চরম আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মোহাম্মদপুর, নিউমার্কেট, খিলগাঁও, হাতিরঝিল, হাজারীবাগ, চকবাজার ও গুলশান এলাকাগুলোতে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটলেও মিরপুর, ফার্মগেট, যাত্রাবাড়ী, শাহজাহানপুর, ধানমন্ডি ও লালবাগসহ অর্ধশতাধিক স্পটে পেশাদার ছিনতাইকারী চক্রের দৌরাত্ম চলছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। যা বর্তমানে এসব থানা এলাকার বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় ছড়িয়ে পড়েছে। ছিনতাইয়ের শিকার হচ্ছেন সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষসহ সর্বসাধারণ। রেহাই পাচ্ছেন না সংবাদকর্মী বা সাংবাদিকরাও।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ভোরে লালবাগের জেএন. সাহা রোডের নিজ বাসা এলাকায় এমনই এক ছিনতাই ঘটনার শিকার হয়েছেন ঢাকা ২৪/৭ অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিক মোহাম্মদ শাহরিয়ার হোসেন অপু। ছিনতাইকারীদের হাতে নগদ অর্থ ও পেশাগত মূল্যবান সামগ্রী খুইয়ে ওই দিনই সন্ধ্যায় লালবাগ থানায় তিনি একটি অভিযোগ দাখিল করেন। যার অভিযোগ নম্বর ০৮, ধারা ৩৯২ পেনাল কোড, তারিখ- ০৯/০৪/২০২৬ খ্রি.।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার ভোরে সাংবাদিক শাহরিয়ার (৪২) তার বন্ধু রাজ এর বিয়ের অনুষ্ঠান শেষ করে অন্য দুই বন্ধু মো. সেলিম (৩৫) ও মো. জুয়েলকে (৩৭) সাথে নিয়ে চকবাজার থানা এলাকাস্থ নান্না বিরিয়ানি হাউজের সামনে থেকে রিক্সাযোগে লালবাগ থানাধীন জেএন. সাহা রোডস্থ নিজ বাসায় ফিরছিলেন। মিনিট দশেক পর আনুমানিক ভোর ৫ টার দিকে তাদের বহন করা রিক্সাটি জেএন. সাহা রোডস্থ রহমত উল্লাহ গার্লস মডেল স্কুল এন্ড কলেজের সামনে পৌঁছলে পিছন থেকে একটি মোটরসাইকেলে থাকা অজ্ঞাতনামা ৩ জন আরোহী রিক্সার সামনে এসে তাদের গতি রোধ করে। তারা ধারালো রামদা প্রদর্শন পূর্বক সাংবাদিক শাহরিয়ার ও তার বন্ধুদের ভয় ভীতি ও জীবন নাশের হুমকি প্রদান করে পরিস্থিতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ক্যামেরা, মোবাইলফোন এবং মানিব্যাগ দিয়ে দিতে বলে। এ সময় শাহরিয়ার বাধা দিলে তাকে রামদা দিয়ে আঘাত করে আবারো প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে তাদের কাছে থাকা ১ টি স্যামসাং মোবাইল, ১ টি ভিভো ওয়াই-২১ মোবাইল, ১ টি ক্যানন-৭০ডি ডিএসএলআর ক্যামেরা, ২ টি ক্যামেরার লেন্স, ২ টি পাওয়ার ব্যাংক, ১ টি মোবাইল হোল্ডার, ২ টি মাইক্রোফোন, ৯ টি মেমোরি কার্ড, ১ টি ট্রাইপড, ১ টি ফিল্টার, ১ টি ক্যামেরা ব্যাগ ও পেশাগত আইডি কার্ডসহ অন্যান্য জরুরি কাগজপত্রাদি নিয়ে পালিয়ে যায়। এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত কোনো আসামীকে আটক করা যায় নাই এবং লুন্ঠিত কোনো মালামাল উদ্ধারও হয় নাই।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর মো. রাশেদুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বার্তা বিচিত্রাকে জানান, “আসামীদের ধরা ও লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলের আশেপাশের ৫ টি সিসি. ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ঘটনার সময় বৃষ্টি থাকার কারণে ক্যামেরার ফুটেজ অনেকটা অস্পষ্ট এবং অপরাধীদের ব্যবহৃত বাইকের নম্বর প্লেটও স্পষ্ট নয়। তবে আসামীদের সনাক্তের জন্য অন্যান্য চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আশা করা যায়, অপরাধীরা পার পাবে না।”
ছিনতাই, কিশোর গ্যাং ও মাদক বিষয়ে এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা বার্তা বিচিত্রাকে জানান, পুরান ঢাকার অলিতে-গলিতে এ সকল অপরাধ কর্মকাণ্ড অনেক বেড়ে গেছে। এ সমস্ত অপরাধীরা সমাজের স্বাভাবিক শান্তি নষ্ট করছে। যেকোনো মূল্যে এসব অপরাধের সাথে জড়িতদের নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার। অন্যথায় খুব দ্রুতই সমাজে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। পুরান ঢাকায় এসব অপরাধ বিষয়ে সমাজের সচেতন মহল ঢাকা-৭ আসনের নব নির্বাচিত সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এসব অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানান।