গজারিয়ায় চাঁদার দাবিতে (হরিপুর- মুদারকান্দী) সেতু নির্মাণ কাজ বন্ধের অভিযোগ

Date: 2026-04-15
news-banner

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ 

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় উপজেলার আড়ালিয়া ও মেঘনা উপজেলার হরিপুর সংযোগ সেতুর নির্মাণ কাজ চাঁদা না পেয়ে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত রহিম বাদশার হুমকির মুখে জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে দুই দিন ধরে কাজ বন্ধ রেখেছেন নির্মাণ শ্রমিকরা।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) আড়ালিয়া গ্রামসংলগ্ন প্রকল্প এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্মাণযজ্ঞ সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে আছে। সাইটে কর্মরত শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন। কাজে যোগ না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শ্রমিক জানান, স্থানীয় প্রভাবশালী রহিম বাদশার হুমকির পর তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় তারা দুই দিন ধরে কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন।

বিষয়টি সম্পর্কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আক্তার হোসেন জানান, সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১৪৬ শতাংশ জমি নির্দিষ্ট মেয়াদে লিজ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ সাল পর্যন্ত লিজের অর্থ পরিশোধ করা আছে, যার মধ্যে অভিযুক্ত রহিম বাদশার ২১ শতাংশ জমিও অন্তর্ভুক্ত। তাকে লিজ বাবদ ইতোমধ্যে ৬৩ হাজার ৫০০ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘গত সোমবার রাত ৯টার দিকে রহিম বাদশা আমাদের কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে এসে হিসাবরক্ষক মনিরুজ্জামানের কাছে মাসিক ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অন্যথায় সাইটের কাজ তাকে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। এরপর শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে চলে যান তিনি। তার হুমকির মুখে মঙ্গলবার সকাল থেকে শ্রমিকরা আতঙ্কিত হয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা মৌখিকভাবে গজারিয়া থানা পুলিশকে জানিয়েছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রহিম বাদশা বলেন, ‘চাঁদা দাবির বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাদের সাথে আমার জমির লিজের মেয়াদ ৪ মাস আগেই শেষ হয়েছে। আমি এখন আর জমি লিজ দিতে চাই না এবং তাদের আমার জমি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছি। এ কারণেই তারা আমার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির সাজানো অভিযোগ আনছে।’

এলজিইডির মেঘনা উপজেলা প্রকৌশলী মো. শহিদুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘উন্নয়নমূলক কাজ কারো হুমকিতে বন্ধ রাখার সুযোগ নেই। আমি বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছি। যেকোনো উপায়ে দ্রুত কাজ পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave Your Comments