এবিএস রনি, শার্শা (যশোর) প্রতিনিধিঃ
হঠাৎ করে যশোরের শার্শায় বাড়ছে চোখ ওঠা রোগীর সংখ্যা। পুরো উপজেলায় প্রত্যেকটি এলাকায় এই রোগের সংখ্যা প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালেও বেড়েছে এ রোগীর সংখ্যা।
চিকিৎসকরা বলছেন, গরমে আর বর্ষায় চোখ ওঠার প্রকোপ বাড়ে। একে বলা হয় কনজাংটিভাইটিস বা চোখের আবরণ কনজাংটিভার প্রদাহ। সমস্যাটি চোখ ওঠা নামেই পরিচিত।
রোগটি ছোঁয়াচে। ফলে দ্রুত অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। কনজাংটিভাইটিসের লক্ষণ হলো চোখের নিচের অংশ লাল হয়ে যাওয়া, চোখে ব্যথা, খচখচ করা বা অস্বস্তি। প্রথমে এক চোখ আক্রান্ত হয়, তারপর অন্য চোখে ছড়িয়ে পড়ে। এ রোগে চোখ থেকে পানি পড়তে থাকে। চোখের নিচের অংশ ফুলে ও লাল হয়ে যায়। চোখ জ্বলে ও চুলকাতে থাকে। আলোয় চোখে আরও অস্বস্তি হয়।
কনজাংটিভাইটিস রোগটি আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ থেকে ছড়ায়। রোগীর ব্যবহার্য রুমাল, তোয়ালে, বালিশ অন্যরা ব্যবহার করলে এতে আক্রান্ত হয়। এ ছাড়া কনজাংটিভাইটিসের জন্য দায়ী ভাইরাস বাতাসের মাধ্যমেও ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তির আশপাশে যারা থাকে, তারাও এ রোগে আক্রান্ত হয় বলে জানান চিকিৎসকরা।
দেখা যায়, রোগটি ছুঁয়াছুয়ে হওয়াতে পরিবারের একজন সদস্য আক্রান্ত হলে বাকি সদস্যরা এই রোগটিতে আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত হওয়া এক ব্যাক্তির সাথে কথা হলে তিনি বলেন,এক দিন সকালে হঠাৎ করে দেখি আমার চোখটি লাল হয়ে আছে। চোখ লাল হওয়া স্বাভাবিক ভাবে নিয়ে তোমন কোন পাত্তা দেইনি। কিন্তু রাতে ঘুমানে পর পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখি চোখ খুলতে পারি না তার সাথে ব্যাথাও রয়েছে।
এ বিষয়ে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ আলীনূর মোহাম্মদ বশির আহম্মদ বলেন, এই রোগটি একটি ভাইরাল ইনফেকশন, এই রোগটি শার্শাতে মোটামুটি ছড়িয়ে পড়েছে। তার সাথে দেখছি সারা দেশেই রোগটি আক্রান্ত সংখ্যা ছড়িয়ে পরেছে। এই রোগটিতে একটু সতর্ক থাকলে ও চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষুধ সেবন করলে সহজেই সেরে যায়। ভাইরাসজনিত রোগ যেহেতু নিজেকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। যারা রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছে তারা যেন কালো চশমা ব্যবহার করে ও সুস্থ মানুষ থেকে দুরত্ব বুঝাই রেখে চলে।