ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও উত্তেজনা নিরসনে একটি স্থায়ী চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারক (MoU) বর্তমানে তেহরান পর্যালোচনা করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে এক সপ্তাহের মধ্যেই চূড়ান্ত সমঝোতা হতে পারে। তিনি বলেন, ইরান এখন আলোচনায় আগ্রহী এবং কূটনৈতিক পথেই সমাধান সম্ভব।
তবে একইসঙ্গে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও তীব্র বোমাবর্ষণ চালানো হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
মার্কিন প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখবে, বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা শিথিল করবে এবং আটকে থাকা অর্থ ছাড় করবে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের বিধিনিষেধও শিথিল করার কথা রয়েছে।
তবে ইরানের ভেতরে এই প্রস্তাব নিয়ে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের নিরাপত্তা কমিটি এটিকে “একতরফা চাপের তালিকা” বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, তারা কোনো ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না এবং প্রয়োজনে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবে।
অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান জানিয়েছেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধানে প্রস্তুত থাকলেও জাতীয় অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাসও প্রকাশ করেছেন।
প্রস্তাবিত চুক্তিতে আরও রয়েছে—ইরান কখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের সুযোগ থাকবে এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমতে পারে, তবে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অবস্থান এখনো বড় বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।