দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ১২ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেশী ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধের লালসার শিকার হয়ে শিশুটি এখন ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয়ভাবে সালিসের মাধ্যমে শিশুটির সঙ্গে অভিযুক্ত বৃদ্ধের কথিত বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ভুক্তভোগী শিশুটি এই ‘মীমাংসা’ মানতে নারাজ; সে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি দাবি করেছে। পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় মাস আগে শীতের এক সন্ধ্যায় নানিকে পান কিনে দিতে দোকানে যাচ্ছিল ওই শিশু। পথে একই এলাকার বাসিন্দা নূর ইসলাম (৬৫) তাকে মুখ চেপে ধরে পাশের একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে ধর্ষণ করে। বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়া হয়। এরপর ভয় দেখিয়ে আরও কয়েক দফায় শিশুটিকে ধর্ষণ করে ওই বৃদ্ধ।
সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ও অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেন তার মামি। পরে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে পরীক্ষা করালে জানা যায়, শিশুটি বর্তমানে ৬ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। অভিযোগ উঠেছে, গত এক সপ্তাহ আগে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় না নিয়ে সালিসের মাধ্যমে মীমাংসার চেষ্টা করেন। দেড় লাখ টাকা দেনমোহর ও দুই শতক জমি লিখে দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে ৬৫ বছরের ওই বৃদ্ধের সঙ্গে ১২ বছরের শিশুটির বিয়ে পড়ানো হয়। একটি খাতায় সই নিয়ে এই বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগী শিশুটি জানায়, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর করে তাকে বিয়ে দেয়া হয়েছে। সে বলে, আমি তাকে স্বামী হিসেবে মানি না। আমার মুখ চেপে ধরে সে খারাপ কাজ করেছে। পেটের ভেতর সন্তান নড়াচড়া করে, কিছু খেতে পারি না। আমি ওই লোকের ফাঁসি চাই। শিশুটি জানায়, সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে সে অভিযুক্তকে ফেরত দিয়ে তালাক নিতে চায়।
শিশুটির বাবা অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, আমি অসুস্থ, ঠিকমতো চলতে পারি না। মেয়ের ভবিষ্যৎ এবং জীবন ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেই ওই লোকের সঙ্গে বিয়ে দিয়েছি। আমার আর কিছু করার ছিল না। তবে মা জানান, প্রতিশ্রুত টাকা বা জমি এখনো তারা পাননি।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে অভিযুক্ত নূর ইসলাম তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে তার বাড়িতে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।
ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নব কুমার বিশ্বাস জানান, শিশুটি বর্তমানে অন্তঃসত্ত্বা। লোকলজ্জার ভয় ও প্রলোভন দেখিয়ে সালিসের মাধ্যমে বিয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু হয়েছে। এছাড়া যারা বেআইনিভাবে এই আপোষ-মীমাংসার সঙ্গে জড়িত ছিল, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেয়া হবে।