মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ইরানের কৌশলগত অবস্থান। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামরিকভাবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়লেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে টিকে থেকে রণকৌশলগত বিজয়ের পথে এগোচ্ছে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের University of Chicago–এর অধ্যাপক জন মিয়ার্শহাইমার–এর একটি তত্ত্ব এখন নতুন করে আলোচিত হচ্ছে। তার মতে, কোনো দুর্বল রাষ্ট্র যদি শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধে টিকে থাকতে পারে, তবে সেটিই তার জন্য কৌশলগত বিজয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান উপসাগরীয় যুদ্ধে সেই অবস্থানেই রয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলায় ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হলেও দেশটি যুদ্ধক্ষেত্রে পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। বরং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে তেহরান।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে বর্তমানে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও ইরান নিজেদের শর্ত ছাড়া পিছু হটতে রাজি নয়। তেহরান বলছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা ছাড়া তারা হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সরাসরি মুখোমুখি যুদ্ধের বদলে ‘অসম যুদ্ধনীতি’ বা অ্যাসিমেট্রিক কৌশল গ্রহণ করেছে। ড্রোন প্রযুক্তি, সামুদ্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থনৈতিক চাপকে ব্যবহার করে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলছে।
এদিকে যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চাপ বাড়ছে। সামনে নির্বাচন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক বৈঠক এবং বিশ্বকাপ আয়োজনকে ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতেও এই যুদ্ধ বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। উপসাগরীয় দেশগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রের একক নিরাপত্তা বলয়ের বাইরে গিয়ে চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিগুলোর সঙ্গে বহুমুখী সম্পর্ক গড়ে তোলার দিকেও ঝুঁকছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বিশ্লেষকদের ভাষ্য, যুদ্ধের তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতিতে ইরান পিছিয়ে থাকলেও দীর্ঘমেয়াদে আঞ্চলিক প্রভাব ও রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করেছে দেশটি।