বুলবুল আহমেদ - ব্যুরো চীফ।
চিকিৎসা সেবায় বিভাগের আট জেলার মানুষের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। আর এই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে রংপুরে গড়ে উঠেছে অনেক অবৈধ ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ফার্মেসি। রেজিস্ট্রার্ড ফার্মাসিস্ট ছাড়া কোনভাবেই ফার্মেসি পরিচালনা করা যাবে না।
এমনকি ফার্মেসির অনুমোদন নিতে হলেও ফার্মেসির উদ্যোক্তাকে নিজে ফার্মাসিস্ট হতে হবে, অন্যথায় একজন ফার্মাসিস্ট নিয়োগ দিয়ে তাকে সাথে নিয়ে যেতে হবে। তবে আইনের এই বাধ্যবাধকতা গৌণ বিষয়ে পরিণত হয়ে ফার্মাসিস্ট ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে রংপুরের অধিকাংশ ফার্মেসি। আর ফার্মেসিতে কাজের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই চলছে এ ব্যবসা। প্রতিষ্ঠিত ও সম্মানজনক ব্যবসার মধ্যে ফার্মেসি ব্যবসা অন্যতম। এই ব্যবসা করার জন্য বাধ্যতামূলক হচ্ছে, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে ড্রাগ লাইসেন্স নেয়া এবং প্রত্যেক ফার্মেসিতে একজন সনদপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট থাকা। অথচ অনেক ফার্মেসিতে কেমিস্ট বা সনদপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট না থাকলেও সব ধরনের রোগের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের কোন রকম নজরদারি না থাকায় আইনের তোয়াক্কা না করেই অলিগলিতে গড়ে উঠেছে এসব ফার্মেসি। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিকসহ সব ধরনের ঔষধও বিক্রি করছেন রংপুরের অনেক ফার্মেসি। বিক্রি করা হচ্ছে মেয়াদোত্তীর্ণ ও নিম্নমানের ঔষধও। তাছাড়া অবাধে বিক্রি হচ্ছে যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও মহিলাদের গর্ভপাতের ঔষধ। এতে করে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে রংপুরসহ রংপুরে চিকিৎসা নিতে আসা সেবাগ্রহীতারা। আর এভাবে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ঔষধ প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ। এদিকে সনদপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট, ড্রাগ লাইসেন্স না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রয়ের মতো অপরাধে প্রশাসন নামিদামি ফার্মেসিসহ বিভিন্ন ফার্মেসিতে জরিমানা করলেও কোনো কাজে আসেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার ৮ উপজেলা ও মহানগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডের হাট-বাজার, অলি-গলিতে ছোট-বড় সবমিলিয়ে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার ফার্মেসি। এর মধ্যে অধিকাংশ ফার্মেসিতে নেই সনদপ্রাপ্ত ফার্মাসিস্ট কিংবা ড্রাগ লাইসেন্স। এদের অনেকের বিরুদ্ধে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র ছাড়াই রোগীদের ঔষধ দেওয়া হয়। ঔষধ প্রশাসন কতৃপক্ষ বলেন যে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।